দিল্লির বিপজ্জনক বায়ুদূষণ দিন দিন আরও বাড়ছে। শহরের বাসিন্দাদের শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষত শীতকালে, যখন ধোঁয়া এবং বিষাক্ত কণা শহরের আকাশে জড়ো হয়, তখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য এটি একটি বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির আর্থিকভাবে সক্ষম বাসিন্দারা স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে শহর ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছেন।
আজ ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবিসি’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের রাজধানী শহর দিল্লির ভয়াবহ বায়ু দূষণ এবং তার প্রভাব নিয়ে বাসিন্দাদের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে, আর যারা এই শহর ছেড়ে যেতে পারেন বা সেই সামর্থ্য রাখেন তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দিল্লির বায়ু দূষণ শহরের বাসিন্দাদের গড় আয়ু প্রায় ১০ বছর কমিয়ে দিতে পারে।
শহর বদলের কথা
সৌরভ ভাসিন নামের একজন কর্পোরেট আইনজীবী, দিল্লির পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে পরিবারসহ গোয়ায় চলে গেছেন। ২০২২ সালে তার সন্তানের শ্বাসজনিত সমস্যা ধরা পড়লে, তিনি তার মেয়েকে ঝুঁকির মধ্যে রাখতে চাননি। এই বিষয়ে সৌরভ বলেন, আমরা জানি, গোয়ায় নিয়ে আসলে আমার মেয়ের হাঁপানি চলে যাবে না। কিন্তু আমরা নিশ্চিত, দিল্লিতে থাকলে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে।

২০১৫ সালে, সৌরভ ভাসিন সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেন, যার মাধ্যমে তিনি আতশবাজি ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান, কারণ এটি শহরের বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ।
সাংবাদিক ও লেখক ওম থানভী ২০১৮ সালে দিল্লি ছাড়েন। তিনি বলেন, দিল্লিতে থাকতে আমাকে ইনহেলার ব্যবহার করতে হতো, কিন্তু এখানকার পরিবেশে এসে আমি আর একে মনে করি না।
প্রতি শীতেই শহর ছাড়ে কিছু পরিবার
দিল্লির বায়ু দূষণ থেকে বাঁচতে প্রতি শীতেই শহর ছাড়ে কিছু পরিবার। রেখা মথুর নামের একজন নবজাতকের মা জানান, শীতকালে তারা দিল্লি ছেড়ে দেরাদুন চলে যান। তিনি বলেন, আমাদের পুরো জীবন দিল্লিতে গড়ে উঠেছিল। আমি কখনই এই শহর ছাড়তাম না, যদি না বায়ু দূষণ এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠত।
সুযোগ নেই সবার
তবে, দিল্লি ছাড়ার সুযোগ সব মানুষের নেই। অনেকেই যেমন জীবিকার কারণে শহর ছাড়তে পারেন না, তেমনি দিল্লির অনেক এলাকা এমনকি পাটনা বা দেরাদুনের মতো ছোট শহরও এখন দূষণের কবলে পড়েছে। সারিতা দেবী দিল্লিতে কাপড় ইস্ত্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, আমি পাটনায় ফিরে যেতে পারি না, কারণ সেখানে আমি উপার্জন করতে পারব না।

সমাধানের বদলে হচ্ছে অবনতি
এদিকে, দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়নি। নির্মাণ কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা, দূষণকারী শিল্প বন্ধ করা এবং যানবাহনের সংখ্যা কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, শহরের বায়ু গুণমান অবনতির দিকে এগিয়ে চলেছে।
দিল্লির এই বায়ু দূষণকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। কারণ লাখ লাখ মানুষের জন্য শহর ছাড়াটা সম্ভব না, আর তাই বায়ু দূষণের সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে দিল্লির বাসিন্দারা তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।







