পাকিস্তানে করাচির বাগদাদী এলাকায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় দিনের মত ভবনটির ধ্বংসাবশেষ থেকে জীবিতদের খুঁজে বের করতে এবং মৃতদেহ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারীরা।
শনিবার (৫ জুলাই) দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় অবস্থিত পুরনো ভবনটি শুক্রবার ধসে পড়ে। ভবনটির ২০টি ফ্ল্যাটে মোট ৪০ জনের বেশি বাস করতেন।
হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে ০৬ জন নারী এবং ১০ জন পুরুষের মরদেহ রয়েছে। এছাড়া ০৩ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার জাভেদ খোসো জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান চলবে আরও ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মত। কেননা, এখনও ধ্বংসাবশেষের নিচে এখনো প্রায় ডজনখানেক মানুষের চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ডেপুটি কমিশনার আরও বলেন, এই ভবনটি তিন বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। দেড় মাস আগে নোটিশও জারি করা হয়েছিল। তবে সেই নির্দেশনা মানা হয়নি। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র নোটিশ ও ব্যানার দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয় না। অবিলম্বে এসব ভবন খালি করার পাশাপাশি, বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ভবিষ্যতের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
ধ্বংসাবশেষ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ট্র্যাপড পার্সন লোকেটর নামক যন্ত্রের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। এই যন্ত্র হৃদস্পন্দন শনাক্ত করতে সক্ষম এবং প্রতিটি স্তর সরানোর পরপরই এটি ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে পুরো অভিযান ধীরগতির হলেও সুনির্দিষ্ট।






