তুরস্কের একটি জনপ্রিয় স্কি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বাঁচার জন্য হোটেলের জানালা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু তারা বাঁচতে পারেননি। স্কুল ছুটির কারণে হোটেলও প্রায় ভর্তি ছিল।
উত্তর-পশ্চিম তুরস্কের একটি স্কি রিসর্টে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ জন। একটা পাহাড়ের উপরে বহুতল গ্র্যান্ড কারটাল হোটেলের রেস্তোরাঁয় আগুন লাগে। তারপর দ্রুত আগুন ছড়ায়।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া বলেছেন, ”আমরা শোকস্তব্ধ। ৫২ জনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।”
স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে, অনেকে ভয় পেয়ে জানালা দিয়ে ঝাঁপ দেন। অনেকে জানালার সঙ্গে বেডশিট ও কম্বল বেঁধে নিচে নামতে চান। টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হোটেলের ছাদ ও উপরের আংশ জ্বলছে। কালো ধোঁয়া উঠছে। তুরস্কে এই সময় স্কুলে ছুটি বলে প্রচুর মানুষ গিয়েছিলেন রিসোর্টে। সেখানে প্রায় ২৩৮ জন পর্যটক ছিলেন।
পাশের হোটেলে কাজ করা ওমর সাকরাক বলেছেন, ”একজন তার এক বছরের বাচ্চাকে বাঁচাবার জন্য মরিয়া ছিলেন। তিনি বলছিলেন, আমি বাচ্চাকে ছুঁড়ে দিচ্ছি। এখানে থাকলে সে পুড়ে মারা যাবে।”
স্কি ইন্সট্রাক্টর নেকমি কেপসিতুতান বেসরকারি টিভি এনটিভি-কে জানিয়েছেন, তিনি ২০ জনকে উদ্ধার করেছেন। কিন্তু এত ধোঁয়া ছিল যে, ফায়ার এসকেপ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার কিছু ছাত্রের কাছে তিনি যেতে পারেননি।
তুরস্কের কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এনটিভি জানিয়েছে, হোটেলে ১৬১টি ঘর ছিল। ঘরগুলিতে কাঠের কারুকার্য ছিল। তার ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০টি দমকল ইঞ্জিন ও ২৮টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে যায়। কাছাকাছি যে হোটেলগুলি আছে, সেগুলি থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এর্দোয়ান জানিয়েছেন, দোষীরা শাস্তি পাবেই। পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে (ডিডব্লিউ)








