আন্তর্জাতিক

আসামের ভয়াবহ বন্যায় বেড়েই চলছে মৃতের সংখ্যা

আসামের বন্যায় ডুবে গেছে গ্রাম ও বাড়ি, পানি প্রবাহিত হচ্ছে ব্যাপকভাবে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

আসামের ভয়াবহ বন্যায় গ্রাম ও বাড়ি পানির নিচে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষের দুর্দশা।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

আসামে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। ঘরছাড়া হয়েছে বহু মানুষ। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে আছেন।

শনিবার (৬ জুলাই) হিন্দুস্তান টাইমস এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যার দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজ্যের ৩৫টি জেলার মধ্যে ৩০টি জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজ্যজুড়ে ২৪ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক মাস যাবৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ, যার ফলে ফসল ধ্বংস ও গবাদি পশুর ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানি ও পরিকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটিতে হাজার হাজার মানুষ বন্যার জেরে ঘরছাড়া অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

জব্বার আলি নামের অসমের এক দুর্গত বাসিন্দা জানান, ভাঙনের কারণে এক মাস আগে আমার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমি ও আমার পরিবার গ্রামের অন্য একজনের বাড়িতে থাকি। আমাদের কোনো ঘরবাড়ি নেই। আমার দুই মেয়ে, মা ও স্ত্রী। আমরা যে বাড়িতে থাকতাম সেটিও প্লাবিত হয়েছে এবং আমরা এখন একটি ত্রাণ শিবিরে অস্থায়ী তাঁবুর নীচে বাস করছি।

বন্যার পানিতে নিজের পাকা বাড়ি হারিয়ে এখন বরপেটা জেলার একটি ত্রাণ শিবিরে থাকেন জব্বার আলি (৩৯)। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও অসুস্থ মাকে নিয়ে তিনি অন্য এক গ্রামবাসীর বাড়িতে আশ্রয় চেয়েছিলেন, কিন্তু বন্যার পানিতে সেই বাড়িটিও ডুবে যায়।

এলাকা ও গ্রামবাসীদের রক্ষায় সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জব্বার বলেন, প্রতিবছর অব্যাহত ভাঙন ও বন্যায় রৌমারী পাথর এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৫০০ পরিবার তাদের জমি হারিয়েছে।

সফিকুল আলম বলেন, বন্যার জেরে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং গ্রামের বেশিরভাগ বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি এবং ভাঙন ও বন্যা সমস্যা ছোটখাটো সমস্যা নয়; এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। মানুষের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। পুরো গ্রাম এখন নদীর মাঝখানে। ঘরবাড়ি হারানো লোকজন এখন সড়কে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। সরকার এখানে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিলে আমরা রক্ষা পাব।

আসামের বরপেটা জেলার প্রধান সমস্যা নদীভাঙন ও বন্যা। প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৭৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার ৫৭১.৫ হেক্টর জমিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধুবড়ি জেলা, যেখানে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৭২১ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার পানিতে ৬৩ হাজার ৪৯০.৯৭ হেক্টর ফসলি এলাকা ডুবে গেছে এবং ১১২টি রাজস্ব সার্কেলের ৩ হাজার ৫১৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানায়, নিয়ামাতিঘাট, গুয়াহাটি, গোয়ালপাড়া এবং ধুবড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিস্তর বিপদসীমার উপরে রয়েছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি দেখতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ডিব্রুগড় শহরে যান এবং বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং সরকার সকলকে সাহায্য করার চেষ্টা করছে।

রাজ্যপাল গুলাব চাঁদ কাটারিয়া এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালও বন্যা প্রভাবিত জেলাগুলো পরিদর্শন করেন এবং রাজ্যের মন্ত্রীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করছেন।

রাজ্যজুড়ে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য এনডিআরএফ এবং ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

বিষয়:বন্যা বন্যায় মৃত্যু ভারত মৃত্যু

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…