দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব, প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ও ছায়ানট-এর সভাপতি ড. সন্জীদা খাতুন-এর প্রয়াণের এক বছর পূর্ণ হলো আজ।
গত বছরের এই দিনে তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
মৃত্যুর আগে প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এই গুণী শিল্পী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস, নিউমোনিয়া ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ড. সন্জীদা খাতুন ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি একাধারে ছিলেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, লেখক, গবেষক, সংগীতজ্ঞ ও শিক্ষক।
ছায়ানট-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনি দেশের সংগীতচর্চা ও সংস্কৃতি বিকাশে অসামান্য অবদান রেখেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করা এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (অনার্স) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে এমএ এবং ১৯৭৮ সালে রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদ নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।
কর্মময় জীবনে তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, নজরুল স্বর্ণপদক, রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার ও রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য উপাধিসহ অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হন। ২০২১ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মাননায় ভূষিত করে।
প্রয়াণের এক বছর পরও ড. সন্জীদা খাতুন রয়ে গেছেন তাঁর সৃষ্টি, সাধনা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে—বাংলাদেশের সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অনন্য প্রেরণার নাম হয়ে। তাঁর প্রয়াণ দিনে চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা।








