চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে

Nagod
Bkash July

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সামাজিক শক্তিকে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের নানা অব্যবস্থাপনা ও সামাজিক নানা সমস্যা নিয়েও সোচ্চার হতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে লড়াইয়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক তৎপরতাও বাড়াতে হবে।

Reneta June

মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‌‘সম্প্রীতির সমাজ এবং মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

মতবিনিময় সভায় জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘রাজনীতিকদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত করতে চাই। তাদের আমাদের কথা শুনতে বাধ্য করতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অব্যবস্থাপনাসহ অন্য সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে। সব ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। তা না হলে মানুষ আমাদের কথা শুনবে না।’

স্পষ্ট করে কথা বলার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রেখে রেখে কথা বললে ক্ষত আরও বাড়বে। তাতে সমস্যার কোনও সমাধানও আসবে না। আমাদের সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে। আমরা করণীয় নির্ধারণ করবো। সে অনুযায়ী এগিয়ে যাবো সবাই।’

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘এই মতবিনিময় সভাটি নির্বাচন সামনে রেখে করা হয়নি। গত এক-দেড় বছর আলোচনা হয়েছে, পূর্বের মতো সংঘবদ্ধ হই। এখানের আলোচনা সরকারের কাছে পৌঁছাবে কি না জানি না। সমাজ বিভক্ত হয়ে গেছে, এটি মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এখন আর সমাজ ঐক্যবদ্ধ না। রাষ্ট্রশক্তিও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জনগণের ওপর নির্ভরশীল না হলে ঐক্য আসবে না। যেই বাংলাদেশ দেখছি, তা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ না।’

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুন নূর দুলাল বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের জন্য কোনও গণতন্ত্র থাকতে পারে না। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ২০২৪ সালে নির্বাচনে সরকারি দল এবং বিরোধী দল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলবে, এমন অবস্থা তৈরি করবো আমরা। এ জন্য যে যার অবস্থান থেকে কাজ করে যাবো।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দোলে শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আমাদের চেতনা শক্তিশালী করতে হবে। আমলারা এমপিদের নিয়ে আইন তৈরি করছে, এটিকে সংস্কার করতে হবে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘সামাজিক শক্তিটাই আমাদের হাতে আছে। সামাজিক সম্প্রীতি গড়তে কাজ করতে হবে। অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নারীর বিরুদ্ধে যেন ধর্মকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া না হয়। তরুণ ও যুবসমাজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে হবে।’

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, ‘ক্ষমতাসীন ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে আমরা বাধ্য করেছিলাম। সেই শক্তি আজ ঝিমিয়ে গেছে। আমাদের আবার এক জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকারের অঙ্গ-সংগঠনগুলো এখন জামাত-শিবিরের দখলে। হিন্দু শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর আক্রমণ আসছে। সামনে নির্বাচন আসছে, অতীতের মতো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।’

বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিউলি শিকদার বলেন, ‘নারীর বিরুদ্ধে ধর্মকে সামনে আনা হচ্ছে এখন। এ ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কাজ করতে হবে।’

সম্প্রীতি বাংলাদেশের সভাপতি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশের জন্য আমরা লড়াই করছি। আমরা প্রশাসনকে বাধ্য করেছি বেশ কিছু সমস্যা সমাধানে। আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই। এ ক্ষেত্রে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটকে এগিয়ে আসতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. আ ব ম ফারুক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে কেন সেভাবে প্রতিবাদ হলো না? চারপাশের অবস্থা মোটেই সুখকর নয়। আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না, আত্মসমালোচনাও করতে হবে। নিজেদের ভুল-দোষগুলো দূর করতে হবে। চুপচাপ ঘরে বসে থাকলে চলবে না, নিজেদের সংহত হতে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে নিন।’

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমলাতন্ত্র এখন সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনৈতিক শক্তিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা আমলাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন কি না। আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতির কথা বলবো।’

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব ডা. কামরুল হাসান খান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের ডা. সারোয়ার আলী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল কবীর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আহ্কাম উল্লাহ প্রমুখ।

BSH
Bellow Post-Green View