সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিপুলসংখ্যক পর্যটকে ভরপুর কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত। পর্যটকদের সমাগমে মুখরিত সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
পর্যটকদের আগমনী খুশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।বর্তমান চলছে পর্যটন মৌসুম। একটু একটু শীতের আমেজও পড়ছে। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারে পর্যটকের সমাগম ঘটে।
শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে আসেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। তারা সৈকতের নীল জলরাশি আর বালুচরে সময় অতিবাহিত করেন।
ঢাকা থেকে আসা লিজা ও তার স্বামী নুরুল হক বলেন, তারা ১৪ জনের একটি গ্রুপ এসেছেন বৃহস্পতিবার। তবে সকালের টাইমে গরম থাকায় বিকেলের টাইমে তারা সৈকতে নেমেছেন। লিজা আক্তার বলেন, সুগন্ধা পয়েন্ট রাতের তিনটা পর্যন্ত সৈকতে ছিলাম, খুব ভালো লেগেছে।
নরসিংদীর সিরাজদিখান থেকে আসা পর্যটক রাসেল বলেন, অনেকদিন পর এবার কক্সবাজার আসলাম ট্রেনে করে ভালোই লেগেছে। একটু একটু শীত পড়ার কারণে কক্সবাজারে যেমন ভালো লাগছে তেমনি তেমনি ট্রেনের যাত্রা ও ভালো ছিল।
টুর অপারেটর এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এস এম কিবরিয়া বলেন,কক্সবাজারে সড়ক বিমানের পাশাপাশি রয়েছে রেলপথ। এই তিন পথে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসছেন কক্সবাজারে।
কক্সবাজার হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কৈইয়ুম চৌধুরী বলেন, শীত পড়ার সাথে সাথে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন ঘটছে। দীর্ঘদিন আমাদের ব্যবসায় মন্দাভাব ছিল। পর্যটকের আগমনের কারণে এখন ব্যবসা আগের চেয়ে অনেক ভালো হচ্ছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো হবে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও ইনানি, হিমছড়ি, পাটুয়ারটেক, টেকনাফ, মাতিনের কুপ, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, মহেশখালীর বৌদ্ধমন্দির, রামুর বুদ্ধমন্দির, সাফারি পার্ক সহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা।
ইতিমধ্যে অনলাইন বাস টার্মিনালসহ অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
টুরিস্ট পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ নজরদারী বাড়ানো হয় টুরিস্ট পুলিশের। নিয়মিত টহল ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ফোর্স দেওয়া হচ্ছে। রাতেও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সৈকত সহ পর্যটন স্পট গুলো নিরাপত্তা আওতায় থাকে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, পর্যটকদের সব বিষয়গুলো আমরা খুবই গুরুত্বসহকারে নিয়ে থাকি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম সার্বক্ষণিক সেখানে কাজ করে। পর্যটকরা কোন প্রকার জাতীয়করণের শিকার না হয় সে যেন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টের সম্মুখে অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে। পর্যটকরা হয়রান শিকার হলে সেখানে অভিযোগ দিতে পারেন।







