চোটে পড়ে মাঠ ছাড়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসি। নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যায়নি গোলের দেখা। অতিরিক্ত সময়ে সুপার সাব লৌতারো মার্টিনেজ বল জালে জড়িয়ে ভোঁ-দৌড় দিয়ে মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন ডাগআউটে। যেটি হয়ে থাকল কোপা আমেরিকার ফাইনালের প্রতীকী চিত্র। আর্জেন্টিনার আবেগের বহিঃপ্রকাশ, কোপা আমেরিকায় টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস। ডি মারিয়ার বিদায়ী ম্যাচকে শিরোপা জয়ে রাঙিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তে বাহিনী।
উত্তেজনা ছড়ানো কোপা আমেরিকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্যভাবে শেষ হয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১১২ মিনিটে মেলে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা। মাঝমাঠ থেকে গড়া আক্রমণে জিওভান্নি লো সেলসোর বাড়ানো বল নিয়ে ডানপায়ের উঁচু শটে নিশানাভেদে আর্জেন্টিনাকে বুনো উল্লাসে মানিয়ে তোলেন সুপার সাব লৌতারো মার্টিনেজ।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে কলম্বিয়া আনে পরিবর্তন। জেমস রদ্রিগেজের পরিবর্তে মাঠে নামেন জুয়ান ফের্নান্দো। ৯৫ মিনিটের মাথায় রদ্রিগো ডি পলের বাড়ানো বল পাওয়া নিকোলাস গঞ্জালেসের শট ঠেকান ভার্গাস। স্কালোনি ৯৭ মিনিটে তিন অদল-বদল আনেন। লৌতারো মার্টিনেজ, লিসাদ্রো পারেদেস ও জিওভান্নি লো সেলসোকে খেলতে নামান। বেঞ্চে বসেন জুলিয়ান আলভারেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফের্নান্দেজ।
আক্রমণে ঠাঁসা অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও কেউ পায়নি জালের দেখা। এরপর সামনে আসে বাকি ১৫ মিনিটের লড়াই। ১০৭ মিনিটে ডি মারিয়ার দূরপাল্লার ক্রসে অল্পের জন্য পা ছোঁয়াতে পারেননি বক্সের ভেতরে থাকা লৌতারো। পাঁচ মিনিট পর অবশ্য আসে সেই লৌতারো মার্টিনেজের লক্ষ্যভেদের স্মরণীয় মুহূর্ত।
মিয়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে সোমবার সকালে ফাইনাল শুরুর আগেই ছড়ায় উত্তাপ। তবে সেটা স্টেডিয়াম গেটের বাইরে। টিকিটবিহীন দর্শকদের হাঙ্গামার কারণে ম্যাচ ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট দেরিতে শুরু হয়। বিশৃঙ্খলা করে কলম্বিয়ান সমর্থকরা। বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেরিতে ৭টা ২০ মিনিটে খেলা শুরু হয়।
প্রথম মিনিটেই সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। গঞ্জালো মন্টিয়েলের বাড়ানো ক্রস থেকে বল পান জুলিয়ান আলভারেজ। বক্সের ভেতর থেকে শট নিয়ে জালে জড়াতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। মিনিট তিনেক পর পাল্টা আক্রমণে যায় কলম্বিয়া, তারাও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। লুইস ডিয়াজের গড়ানো শট ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
পরের মিনিটে রদ্রিগেজের বাড়ানো বলে করদোভা শট নিলে বারের ঠিক পাশ দিয়ে চলে যায়। হতাশ হতে হয় কলম্বিয়াকে। ১৩ মিনিটে আবারও আক্রমণে যায় কলম্বিয়া। এবার রদ্রিগেজের বাড়ানো বলে কুয়েস্তা হেড করলে সহজে তালুবন্দি করেন মার্টিনেজ। ৩৩ মিনিটে দারুণ এক শট নেন লারমা। মার্টিনেজের হাতে লেগে বল মাঠের বাইরে চলে যায়। বাকি সময়ে আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারায় গোলশূণ্য বিরতিতে যেতে হয় দুদলকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে দুদলই লড়াই করছে সমানে-সমান। ৪৮ মিনিটের মাথায় কলম্বিয়া অল্পের জন্য গোলের সুযোগ নষ্ট করে। জোন কর্দোবার হেডে বল পাওয়া সান্তিয়াগো আরিয়াসের ডান পায়ের শট পোস্টের সামান্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ড পর আর্জেন্টিনার সামনে আসে সুযোগ। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের পাসে বল পাওয়া অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার বাঁ-পায়ের শট প্রতিহত করেন গোলরক্ষক ক্যামিলো ভার্গাস।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা খেলার ৫৪ মিনিটে কর্দোবার হেডে ছয় গজ দূর থেকে হেড নেন ডেভিনসন সানচেজ। বল পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে যায়, লিড পায়নি কলম্বিয়া। চার মিনিট পর ডি মারিয়ার শট ভার্গাস প্রতিহত করেন।
বলের দখল নিতে গিয়ে ৬৪ মিনিটে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান মেসি। পায়ের পুরনো চোট তাকে পুরো ম্যাচেই ভোগাচ্ছিল। কোচ লিওনেল স্কালোনি বাধ্য হয়ে সেসময় মেসিকে বেঞ্চে বসিয়ে নিকোলাস গঞ্জালেসকে নামান। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়া মেসি বেঞ্চে বসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন। ৭১ মিনিটে আরেকটি পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। চোটে পড়া গঞ্জালো মন্টিয়েলের বদলে নাহুয়েল মলিনাকে মাঠে নামান।
খেলার ৭৫ মিনিটে ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো লক্ষ্যভেদ করলেও লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেন। ওই সময় বাঁ-প্রান্তে এনজো ফের্নান্দেজ অফসাইড পজিশনে ছিলেন। রেফারি ভিএআরে দেখে নিশ্চিত হলে আর্জেন্টিনার হতাশা বাড়ে। ডি বক্সের ভেতর ৮৮ মিনিটে ডি মারিয়ার হেডে অল্পের জন্য বল জালে জড়াতে পারেননি নিকোলাস গঞ্জালেস। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। তাতে আকাশী-নীলরা হাসে শেষ হাসি।








