স্বজন হারানোর বেদনা আমরা সকলেই বুঝি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সড়কে মৃত্যুহার কমানো সরকারের উদ্দেশ্যে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা মিলনায়তনে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর দশম মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমিও সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েছিলাম। আমার অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল আমি এটা হবো, সেটা হবো।কিন্তু এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার সবকিছু থমকে গিয়েছিল। মহান রাব্বুল আলামিন এক রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তবে রাজনীতির রাস্তাটা বোধহয় ওপেন করে রেখেছিলেন। স্বজন হারানোর বেদনা ইলিয়াস ভাই যেমন বুঝেন, আমরাও তেমন বুঝি। সড়কে কেউ হারিয়ে যাক, সেটা আমরা চাই না। কারো অঙ্গহানি হোক, সেটাও আমরা চাই না। আমরা সতর্কতামূলকভাবে ব্যবস্থা নিতে চাই। আমরা একটা আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, দেশে ২০২৩ সালে পাঁচ হাজার ৪৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫ হাজার ২৪ জন। এটা বেশ উল্লেখযোগ্য একটা সংখ্যা। অদক্ষ ও অসচেতন চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চালকের মোবাইল ফোনে কথা বলা, অনিরাপদ ও ভঙ্গুর সড়কে ট্রাফিক আইন মেনে না চলা, পুলিশের গাফিলতি, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এমন অনেক কারণ আছে দুর্ঘটনার। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। এ বিষয়ে সরকার ২২ অক্টোবর নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করে। যা সারাদেশে গুরুত্ব সহকারে পালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সড়ক আইন সংসদে পাশের কাছাকাছি চলে আসছে। এখানে চালক, সহযোগী, মালিক এবং বিভিন্ন ট্রান্সপোর্টের এজেন্সিসহ সবারই তাদের দায়িত্বটা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ হয়েছে। কার দায় কত, কার কত শাস্তি হবে সেটা বলা হয়েছে।একটি আধুনিক শহরে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকতে হয়। আমাদের দেশের কোনো শহরে ২৫ শতাংশ সড়ক নেই। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের জুন মাসে ৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ আগে খতিয়ে দেখা উচিত।
নিসচার কর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। আপনারাও সড়ক দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে আমাদের দিন। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। ঢাকাকে যানজট মুক্তসহ কীভাবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আনা যায় তার চেষ্টা হচ্ছে জানান মন্ত্রী।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী জানান, সড়ককে নিরাপদ করতে মানুষকে সচেতন করা জরুরি। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।
মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, নিসচার মহাসচিব এস এম আজাদ, যুগ্ম মহাসচিব লায়ন গনি মিয়া বাবুল, ভিসতা ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান হোসেন আকাশ এবং আমেরিকান ওয়েলনেস’র পরিচালক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ প্রমুখ।








