“নৃত্য মানেই চিন্তা। যে চিন্তা সমাজের কথা বলে, মানুষের কথা বলে, নতুনের কথা বলে।” — এভাবেই সমসাময়িক নৃত্যের দর্শন ব্যাখ্যা করলেন নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষক অমিত চৌধুরী।
রাজধানীর গ্যেটে ইনস্টিটিউটে বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হলো ‘সমসাময়িক নৃত্য: ধারণা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার। ওয়ার্ল্ড ডান্স অ্যালায়েন্স-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টার ‘নৃত্যযোগ’ আয়োজিত এই সেমিনারে অংশ নেন প্রায় ৩৫ জন নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারী।

আলোচক অমিত চৌধুরী বলেন, “আমাদের দেশে একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে—কনটেম্পরারি ড্যান্স মানেই পাশ্চাত্যের অনুকরণ। কিন্তু বিষয়টা মোটেও তা নয়। আমি যে ভরতনাট্যম শিল্পী, সেই আর্টফর্ম দিয়েও বর্তমান সময়ের কথা বলা সম্ভব। তবে তাতে নতুনের পরিচয় থাকতে হবে।”
সেমিনারে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নৃত্যশিক্ষক ও ভরতনাট্যম শিল্পী জুয়েইরিয়াহ মৌলি। তিনি বলেন, “সমসাময়িক নৃত্যে মূল জিনিস হলো চিন্তা। এ ধারণার শুরু ২০শ শতকের গোড়ায়, আধুনিক নৃত্য থেকে। তবে কনটেম্পরারি আর মডার্ন ড্যান্স এক জিনিস নয়। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস।”
সমসাময়িক নৃত্যের শেকড় নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “ইসাডোরা ডানকানকে বলা হয় ‘মাদার অব মডার্ন ড্যান্স’। তিনি প্রথম ব্যালের কঠোর ধারা ভেঙে খালি পায়ে মঞ্চে নেচেছিলেন, যা সে সময় ছিল বিপ্লবাত্মক। সেই আধুনিক ধারা থেকেই ধীরে ধীরে সমসাময়িক নৃত্যের বিকাশ ঘটে। আর এই ধারাকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলেন মার্স কানিংহ্যাম, যাকে কনটেম্পরারি ড্যান্সের জনক বলা হয়।”
মৌলি আরও বলেন, “অডিয়েন্স সবসময় নাচ বুঝে ফেলবে—এটা জরুরি নয়। বরং শিল্পী যদি নিজের কাজ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখেন, তবে অডিয়েন্স অন্তত কিছু চিন্তা নিয়ে ঘরে ফেরে। আমার কাছে মনে হয়, এই চিন্তার উদ্রেক ঘটানোই কনটেম্পরারি বা সমসাময়িক নৃত্যের মূল লক্ষ্য।”

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান আনন্দিতা খান। সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন নৃত্যযোগের সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ তাবাসসুম আহমেদ এবং নির্বাহী সদস্য সৈয়দা সায়লা আহমেদ লিমা।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, সমসাময়িক নৃত্য নিয়ে এমন উদ্যোগ তাঁদের ভবিষ্যতের শিল্পচর্চায় স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা জোগাবে। বক্তারা নতুন প্রজন্মের নৃত্যশিল্পীদের নিজস্ব সৃষ্টিশীল ভাষা খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন এবং এই সেমিনারকে ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।








