<strong>ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা বা নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে, এমন নির্দেশনাসংবলিত একটি ঐতিহাসিক বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট।</strong>
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫০-৪৮ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদও প্রস্তাবটি অনুমোদন করে।
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ প্রণয়নের পর এই প্রথম কংগ্রেসের উভয় কক্ষ কোনো প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ বন্ধ করা বা সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশমূলক প্রস্তাব পাস করল।
বিলটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখলেও চার রিপাবলিকান সিনেটর দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তারা হলেন বিল কাসিডি, লিসা মুরকোস্কি, সুসান কলিন্স এবং র্যান্ড পল।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল ও ডেভিড ম্যাককরমিক ভোটদানে বিরত ছিলেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে বা নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে হলে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আসন্ন হামলা প্রতিরোধে সীমিত সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরান যুদ্ধের পেছনে বিপুল ব্যয় যৌক্তিক ছিল। বিষয়টি নিয়ে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত আমেরিকান জনগণের জন্য বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে।
তবে বিলটির বিরোধিতা করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ। তার দাবি, এ ধরনের প্রস্তাব সুইজারল্যান্ডে চলমান শান্তি আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল করতে পারে এবং ইরানকে আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে।
হোয়াইট হাউস শুরু থেকেই বলে আসছে, ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অসাংবিধানিক এবং এটি প্রেসিডেন্টের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। এছাড়া প্রশাসনের দাবি, গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান হয়েছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, প্রেসিডেন্টের নয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিলটি পাস হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে ভেটো দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে এটি মূলত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।







