রানা প্লাজা ধসের প্রায় ১ যুগ পেরিয়ে গেলেও দোষীদের বিচারের দাবিতে সমাবেশ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনসহ অনেকগুলো শ্রমিক সংগঠন।
এ সময় নিহত ও আহত শ্রমিকদের স্মরণে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বানে বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ৭টায় সাভার রানা প্লাজা স্মৃতি স্তম্ভের সামনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন: গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সবুজ, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়কারী মো. ইয়াছিন, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের শবনম হাফিজ ও শামিম ইমাম, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য সচিব রাজু আহমেদ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এফ. এম আবু সাঈদ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মো. রেজাউল করিম, আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম শেখ, আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর তরিকুল ইসলামসহ সাভার থানা আঞ্চলিক কমিটি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।
শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট ইসমাইল বলেন, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ৫ টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ৩৫৭৭ জন শ্রমিকের মধ্যে ১১৩৯ জন কর্মরত শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর ৪৪৬টি মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যু হয় ২ জন, ২৯১ টি মৃতদেহ অশনাক্ত অবস্থায় জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। জীবিত উদ্ধারকৃত ২৪৩৮ জন শ্রমিকের মধ্যে ৪৩০ জন মাথায় গুরুতর আঘাতে চিকিৎসাধীন, ৩৬৩ জন শ্রমিকের পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে পঙ্গু, ২৯৯ জন শ্রমিকের হাত ভেঙ্গে পঙ্গু, ২০৫ জন শ্রমিকের বুকের পাঁজর এবং ১০৪ জন শ্রমিকের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে, ২৬৮ জন শ্রমিক মানসিক ভাবে অসুস্থ ও ১৮ জন হাসপাতালে ও নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। উদ্ধার কাজে নিয়োজিত কর্মী কায়কোবাদের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছিল।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা সারা বিশ্বে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। আজও কর্মস্থলে শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি, যার কারণে টেম্পাকো ফয়েলসে ৩৪ জন, মাল্টিফেবে ১৩ জন, হাশেস ফুড-সেজান জুসে ৫৪ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, তাজরিন গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ডের ১২১ জন শ্রমিক হত্যাকান্ডে দায়ী-দোষীদের মামলা আদালতে ঝুঁলে আছে, আজও বিচার হয়নি।
বক্তারা বলেন, প্রায় একযুগ অতিক্রান্ত হলেও রানা প্লাজা ধসসহ বিভিন্ন কল-কারখানায় শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ী-দোষীদের বিচার এবং শাস্তি না হওয়ায় প্রমান করে, অনেক বড় অপরাধ হলেও প্রচলিত আইনে এই শ্রমিক হত্যার বিচার সম্ভব নয়। কর্মস্থলে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য পুরানো আইন সংশোধন করে বিশেষ আইন তৈরি করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা এখন সভ্যতা ও মানবাধিকারের দাবি। এ লক্ষ্যে আজ দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
রানা প্লাজা ধসের দায়ী-দোষীদের বিচারের শাস্তির দাবিতে সকল শ্রমিক নেতৃবৃন্দ প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।








