বিশ্বের বিপন্ন প্রাণীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে কমনওয়েলথ। ঐতিহাসিকভাবে মানুষের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠক (সিএইচওজিএম) এবার রূপ নিল এক অভিনব উদ্যোগে—কমনওয়েলথ প্রাণী প্রধানদের সভা (সিএইচওএএম)। ২০২৬ সালের বৈঠকটি পুনঃনির্ধারণ করে ২০২৫ সালে আয়োজন করা হয়। এতে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের বিপন্ন প্রাণীরা অংশ নেয়।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার বিপন্ন প্রজাতির প্রতিনিধিরা বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থায় অংশ নেন।
সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান প্রাণীদের আনা হয় বিশেষ ক্রুজে, এশীয় প্রাণীদের জন্য তৈরি করা হয় আলাদা ট্রেন এবং আফ্রিকার অনেক প্রাণী সম্মেলনে উপস্থিত হয় পায়ে হেঁটে কিংবা বিমানে। সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৭৫২ টির বেশি বিপন্ন প্রাণী সভায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান চিতা, আফ্রিকান হাতি, মালায়ান ট্যাপির, দক্ষিণ ডান তিমি, কোয়ালা, এশিয়ান হাতিসহ আরও বহু প্রজাতি। সম্মেলনের থিম ছিল টেকসই অস্তিত্বের দিকে।
জলবায়ু সংকট, শিকার ও বন উজাড় নিয়ে প্রাণীদের উদ্বেগ
সভায় পাঁচ দিন ধরে প্রাণীরা তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা নানা বৈশ্বিক সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করে। প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো ছিল—আফ্রিকায় খাদ্যসংকট, যেখানে প্রতিবছর ৯২.২ বিলিয়ন প্রাণী মারা যাচ্ছে, এশিয়ায় চোরাশিকার ও ব্যাপক বন উজাড়, যা বছরে ৬৪২ মিলিয়ন প্রাণীর মৃত্যু ঘটায়। অস্ট্রেলিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য ছিল—সুমাত্রান গণ্ডারের সংখ্যা মাত্র ৩৪টিতে নেমে এসেছে, এবং মালয়েশিয়ায় এটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত।
সমুদ্র দূষণ, অতিরিক্ত মাছ ধরা ও অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য—বৈশ্বিক উদ্বেগ
প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের দূষণের প্রভাব সরাসরি পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার জীববৈচিত্র্যে। প্রতি বছর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝড়, তাপপ্রবাহ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৩ বিলিয়ন প্রাণী মারা যাচ্ছে। অতিরিক্ত মাছ ধরা বিশ্বব্যাপী মাছের ৪৯ শতাংশ হত্যার কারণ। গ্রেট হোয়াইটসহ বহু হাঙর তাদের পাখনার জন্য শিকার হচ্ছে। অবৈধ বন্যপ্রাণি বাণিজ্যের কারণে প্রতি বছর ১ লাখ ৫০ হাজার প্রাণী মারা যায়, কারণ পাচার করা প্রাণীরা নতুন পরিবেশে টিকে থাকতে পারে না।
চার্লস তৃতীয় ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
চতুর্থ দিনের শেষে প্রাণী প্রতিনিধিরা ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয় ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রাণীদের দুঃসহ পরিস্থিতি শুনে তারা বিস্মিত হন এবং অবিলম্বে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন।
নির্ধারিত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে ছিল—শিকারি শনাক্তে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র শনাক্তকারী টারেট স্থাপন, বনের চারপাশে ৪০ ফুট উচ্চ কংক্রিট প্রাচীর, যা শুধু রক্ষীদের মুখ চিহ্নে খুলবে, সমুদ্র সুরক্ষায় সোডিয়াম গ্রেনেড লঞ্চার। সিদ্ধান্তগুলো কমনওয়েলথের ৫৬টি দেশের জন্য বাধ্যতামূলক।








