চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ বেড়িবাঁধই খুব নাজুক। বেড়িবাঁধের কোথাও কোথাও মাত্র দুই থেকে তিন ফুট চওড়া মাটির বাঁধ রয়েছে। এমন দুর্বল বেড়িবাঁধ ভাঙার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে সন্দ্বীপবাসী।
বেড়িবাঁধ নির্মাণকারী পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো উপকূল রক্ষায় টেকসই কোনো প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন করেনি। বর্ষা আসলে কেবল জোড়াতালি দিয়েই সময়টা পার করে। ফলে সরকারি বরাদ্দের কোনো সুফল মেলে না। এলাকাবাসীরও কোনো উপকার হয় না। এরইমধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী রোববার উপকূলে আঘাত হানতে পারে মোখা। ঘূর্ণিঝড়টি মিয়ানমারের রাখাইন ও বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তার মধ্যে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকাসহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আঘাত আনার সম্ভবনা দেখছে আবহাওয়া অফিস। এটির বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ থাকতে পারে ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার।
সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ইয়াসের পর সন্দ্বীপ উপজেলার কয়েকটি জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত করা হয়নি। কোথাও কোথাও নেই বেড়িবাঁধ। পাশাপাশি কিছু কিছু স্থানে মাত্র কয়েক কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে মাটি ফেলে সংস্কার করা হয়। তবে এখনো ১৮ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিতে আছে।
এছাড়াও ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের ৩২ বছর পরও সন্দ্বীপের উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ অরক্ষিত থেকে গেছে। এই উপজেলার অনেক অংশে এখন বড় জোয়ার আসলেও পানি ঢুকে যাচ্ছে লোকালয়ে। ফলে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের খবর শুনলেই আতঙ্কে দিন কাটছে লাখো মানুষের।
এলাকাবাসী ও পাউবোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের শোকাবহ দিন ২৯ এপ্রিল এরইমধ্যে চলে গেছে। সেই রাতে ঘূর্ণিঝড় ও ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস কেড়ে নেয় উপকূলের লাখো মানুষের প্রাণ। তাদের মধ্যে সন্দ্বীপের অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে প্রাণ যায় হাজার হাজার গবাদিপশুর। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ উপকূলীয় এলাকা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিণত হয় বিরাণভূমিতে।
ঘূর্ণিঝড় মোখার খবর ঘিরে উপকূলীয় এলাকার মানুষ তাদের হারানো স্বজনদের স্মরণ করে সেই ২৯ এপ্রিল রাতের সেই বিভীষিকা স্মরণ করে আজও শিউরে ওঠে উপকূলের মানুষ। মূলত সেই সময়ে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় উপকূলীয় এলাকা রাতের মধ্যেই বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছিল। আর এখনো সেই অরক্ষিত অবস্থা কাটেনি।
বেড়িবাঁধ নির্মাণকারী পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো উপকূল রক্ষায় টেকসই কোনো প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন করেনি। বর্ষা আসলে কেবল জোড়াতালি দিয়েই সময়টা পার করে। ফলে সরকারি বরাদ্দের কোনো সুফল মেলে না। এলাকাবাসীরও কোনো উপকার হয় না।
সন্দ্বীপের একাধিক জনপ্রতিনাধি বলেন, প্রতিবছর বাঁধ ভাঙছে। কেউ না কেউ নিঃস্ব হচ্ছে। বর্তমানে যে কয়েক জায়গায় বাঁধ ধসে গেছে। নদীতে জোয়ার বাড়লে বড় ক্ষতি হতে পারে। বাঁধ ভাঙলে বিভিন্ন এলাকা নদীর পানিতে তলিয়ে যাবে।
বিষয়টি নিয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের স্থায়ী সমাধান করতে হলে নদী শাসনকাজ করতে হবে। এ জন্য পাকা ব্লক ফেলা ছাড়া বিকল্প নেই।







