হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিপুল প্রভাব পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেছেন, উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় জাপান ও অস্ট্রেলিয়া ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (৩ মে) অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় সফরকালে দেশটির সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন তাকাইচি। এ সময় জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একাধিক চুক্তিও সই করে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত প্রণালীতে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার প্রায় ৮০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোর গন্তব্য এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
তাকাইচি বলেন, হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও জানান, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় জাপান ও অস্ট্রেলিয়া ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ বজায় রেখে প্রতিক্রিয়া জানাতে সম্মত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া জাপানের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জোগান দেয় এবং দেশটির জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সবচেয়ে বড় বাজার।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ক্যানবেরা ও টোকিও উভয়ই বিকল্প ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা করছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, জাপানের মতো আমরাও তরল জ্বালানি ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
তিন দিনের সফরের প্রথম দিনেই জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক যৌথ বিবৃতি দেয়।
জাপানি অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পে সহায়তা দিতে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৯৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত তহবিল দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। এর মাধ্যমে গ্যালিয়াম, নিকেল, গ্রাফাইট, বিরল মৃত্তিকা ও ফ্লোরাইটসহ বিভিন্ন সম্পদ জাপানে সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
জাপান সরকার জানিয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি ও অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে।
গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর জন্য জাপানের মোগামি-শ্রেণির স্টেলথ যুদ্ধজাহাজ সরবরাহে প্রায় ১০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি চুক্তির ঘোষণাও দিয়েছে দুই দেশ।







