বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর কলকাতার বাসভবনে তল্লাশি চালাতে পৌঁছেছে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (১০ জুন) দুপুরের দিকে রাজ্য তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা কালীঘাট থানার সদস্য ও বিপুলসংখ্যক নারী পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছান।
বিধানসভার স্পিকারের কাছে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতির জন্য জমা দেওয়া একটি প্রস্তাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এমন অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে সিআইডি। এরই অংশ হিসেবে কয়েকদিন আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়ে নোটিশও পাঠানো হয়েছিল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিআইডি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর দেওয়া জবাবের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এক সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, তার জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। সেই বক্তব্যের ভিত্তিতেই তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা এখানে এসেছি।
বর্তমানে তিনটি পৃথক সিআইডি দল তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে।
এর মধ্যে একটি দল দিল্লিতে অবস্থানরত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে, আরেকটি দল তার ভাতিজা ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে এবং তৃতীয় দল তার বাসভবনে তল্লাশি চালাচ্ছে।
বিরোধের সূত্রপাত হয় যখন বিধানসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি প্রস্তাবে জ্যেষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই প্রস্তাবে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল।
তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেন যে তথাকথিত প্রস্তাবটি মনগড়া ও জালিয়াতিপূর্ণ। তারা দাবি করেন, ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে অন্তত ১৪টি ইংরেজি ব্লক লেটারে লেখা ছিল, যা সন্দেহের জন্ম দেয়।
এই অভিযোগের পর একটি এফআইআর দায়ের করা হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী সুবেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে ওই দুই বিধায়কের নাম উল্লেখ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস তাদের বিরুদ্ধে ‘দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ এনে দল থেকে বহিষ্কার করে।







