লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী, অগণতান্ত্রিক ও এখতিয়ার বহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, বীর বিক্রম।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বহিষ্কারাদেশের পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি একথা বলেন।
এর আগে একই দিন এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘বিভ্রান্তিকর বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই বক্তব্য এলডিপির কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত বা পর্যবেক্ষণ নয় এবং এটি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। বিষয়টি দলটির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদসহ শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে এসেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে নিজের প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী দাবি করেন, তিনি নিজে কোনো ফেসবুক স্ট্যাটাস দেননি। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়াজুল বশিরের একটি স্ট্যাটাসে তিনি মন্তব্য করেছিলেন মাত্র। নিজের মত প্রকাশ করা তার সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিবাদে তিনি বলেন, ওই মন্তব্যে এলডিপির আদর্শ, স্বার্থ বা নীতির বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য ছিল না। তিনি কেবল বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে এলডিপির কোনো আনুষ্ঠানিক জোট বা লিখিত চুক্তি নেই– ছিল পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমঝোতা, যা বিএনপি ভঙ্গ করেছে।
বহিষ্কারাদেশের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। তিনি বলেন, এলডিপির গঠনতন্ত্রের ৬.৩ ধারা অনুযায়ী প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের লিখিত সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। অথচ এ বিষয়ে তাকে কিংবা প্রেসিডিয়াম সদস্যদের কিছুই জানানো হয়নি এবং প্রেসিডিয়ামের কোনো বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়নি।
মহাসচিবের একক সিদ্ধান্তে দেওয়া এই সাময়িক বহিষ্কারাদেশ দলীয় গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী ও অগণতান্ত্রিক বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য বলেও উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কার সংক্রান্ত কোনো লিখিত আদেশ এখনো তিনি পাননি। অথচ বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, যা তার ব্যক্তিগত সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। লিখিত আদেশ পাওয়ার পর তিনি আইনগত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।
এ প্রতিবাদপত্রটি এলডিপির সব সদস্য, সমর্থক ও জাতির উদ্দেশ্যে অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।








