‘বাংলা কনটেন্টের রাজধানী হবে ‘চরকি’ এই স্বপ্ন নিয়ে ২০২১ সালের ১২ জুলাই পথচলা শুরু করেছিল দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্ম চরকি। সাফল্য এবং ব্যর্থতা দুটিকে সঙ্গে নিয়ে চার বছর পূর্ণ করলো বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই ওটিটি প্লাটফর্মটি।
যাত্রার শুরু থেকে দেশী-বিদেশি মিলিয়ে শতাধিক সিরিজ, সিনেমা মুক্তি দিয়েছে ‘চরকি’। বর্তমানে ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) নিবন্ধিত দর্শক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে চরকি দেখে।
সোমবার দুপুরে চরকি’র অফিসে অ্যাপটির সঙ্গে বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের সম্পৃক্ততা জানাতে সিইও ও নির্মাতা রেদওয়ান রনি আলাপের ফাঁকে জানান, সঠিক সংখ্যা না বলা গেলেও চরকি-তে বিনিয়োগ হয়েছে শতকোটি টাকার উপরে!
চরকি’র বিনিয়োগ কত? জানতে চাইলে রেদওয়ান রনি বলেন, অ্যামাউন্টের নাম্বারটা বলা কঠিন। তবে এখানে অনেক বড় ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) রয়েছে। পরিকল্পনা ছিল পাঁচ বছরে ব্রেক ইভেন পয়েন্ট (আয়-ব্যয় সমান) যাবো। কিন্তু তার আগে এই বছরের ডিসেম্বরে আমরা অপারেশনাল ব্রেক ইভেন পয়েন্টে যাচ্ছি। তবে পুরো ইনভেস্টমেন্টের ব্রেক ইভেনে যেতে আরেকটু সময় লাগবে। অবশ্যই সেটা শতকোটির বেশী।
রেদওয়ান রনি বলেন, বাইরের ওটিটিগুলো আমাদের থেকে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা বাইরের দর্শক দিয়ে বিদেশ থেকে ডলার আনছি। ফরেন কারেন্সিতে জমা হচ্ছে। সেইসঙ্গে আমাদের দেশের মেধাবীরা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। আমরা নিজেরাও নতুন টিম নিয়ে শুরু করেছিলাম, যারা কেউ ওটিটি সম্পর্কে অনেক বেশী নলেজ রাখতো না। সেখান থেকে আমরা একটু একটু করে এগিয়েছি। চেয়েছিলাম, চরকি এমন একটা ব্র্যান্ড হবে যেখানে বাংলাদেশের নির্মাতা, শিল্পী থেকে দর্শকদের কাছে ট্রাস্ট অর্জন করবে। আমরা একটু একটু করে নিজেদের সমৃদ্ধ করছি।
রনি বলেন, আসলে এই সময়ে আমাদের যতটুকু প্রাপ্তি তার চেয়ে বড় বিষয় চরকি একটা ইন্ডাস্ট্রি ক্রিয়েশন করতে পেরেছে। আমি বিশ্বাস করি, চরকিতে যত জন নির্মাতা কাজ করছেন প্রত্যেকে এখন ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করার যোগ্য। আমাদের বিশ্বাস আছে, ভবিষ্যতে আমরা আরো এগিয়ে যাবো। বড় কোনো প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা করতে হলে সেখানে বিনিয়োগ এবং প্রফিটটা লম্বা প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে আমরা যে সম্ভাবনা তৈরি করেছি সেটাই এখন পর্যন্ত প্রাপ্তি। ১৯০টি দেশ থেকে চরকি দেখছে দর্শক, ৩৬টি কারেন্সিতে পে করা হচ্ছে। এগুলো প্রাউড লাগে।
তিন বছরের চরকির ভুল সিদ্ধান্ত কী? রনির উত্তর, ডিরেক্টর বা আর্টিস্ট হিট কনটেন্ট দিলে সেটা বিবেচনা করে পরে আবারও সুযোগ দেয়া উচিত না। প্রতিটি কাজের অ্যাসেসমেন্ট ওই কাজকে কেন্দ্র করে করা উচিত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসবে আমরা ছাড় দিয়েছি, এদিকটা আমাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এসব বিষয়ে আমরা আগামীতে সচেতন হচ্ছি। এছাড়া আমাদের আগামীতে দর্শকদের আরও কাছাকাছি যাওয়া উচিত। আমরা দর্শকদের বিভিন্ন গল্প দেখার সুযোগ দিচ্ছি, কিন্তু দর্শকদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করছি না তারা কী দেখতে চান। এটা আমাদের লার্নিং।








