শিশুরা খেলাধুলা, হাইকিং বা বাগান করার মতো শারীরিক কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার পরিবর্তে স্ক্রিন দেখার জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে তা পরবর্তীকালে তাদের স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এনডিটিভি জানায়, গবেষণায় ১৯৭৩ সাল থেকে ৪৫ বছর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের শত শত শিশুকে অনুসরণ করে দেখা গেছে, যারা টেলিভিশন দেখে বেশি সময় কাটিয়েছেন তাদের প্রাপ্তবয়স্ক পর্যায়ে উচ্চ-রক্তচাপ এবং স্থূলতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি যৌনতা, শৈশবের বডি মাস ইনডেক্স এবং পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করার পরও তাদের স্বাস্থ্যে এই প্রভাবগুলো স্পষ্ট ছিল।
গবেষণার লেখক বব হ্যানকক্স জানান, গবেষণাটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারে না যে একমাত্র টিভি দেখাই সরাসরি এই স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর কারণ। তবে স্ক্রিন টাইম এবং স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে, যেমন- বেশি স্ক্রিন টাইম কাটানো বাচ্চারা তাদের প্রকৃতির কারণে শারীরিকভাবে কম সক্রিয় হতে পারে। আবার স্ক্রিন টাইমে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন তাদের ভুল খাদ্যাভ্যাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এই গবেষণার ভিত্তিতে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের উচিত তাদের বাচ্চাদের পর্দার ব্যবহার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। এছাড়াও আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স বাচ্চাদের অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম সীমিত করার, বাচ্চাদের সাথে একসাথে স্ক্রিন দেখার এবং মানসিক, সামাজিক, মস্তিষ্ক এবং পরিচয় বিকাশকে সমর্থন করার জন্য স্ক্রিন টাইমের আশেপাশের বিষয়বস্তু এবং যোগাযোগের উপর ফোকাস করার পরামর্শ দেয়।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যেমন- চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে ফলের শরবত বা পানি পান করা, শাকসবজির স্ন্যাকস তৈরি করা এবং লবণের পরিবর্তে খাবারে লেবুর রস, ভেষজ লবণ বা মসলার মিশ্রণ ব্যবহার করা। এছাড়াও গাড়ির পরিবর্তে বাবা-মায়েরা তাদের বাচ্চাদের সাথে হেঁটে স্কুলে যেতে পারেন বা পায়ে হেঁটে কাজ করতে যেতে পারেন বা বাচ্চাদের পার্কে খেলার জন্য নিয়ে যেতে পারেন।







