বাংলা সংস্কৃতির পথিকৃৎ ও ছায়ানটের দীর্ঘদিনের সভাপতি সন্জীদা খাতুনের মৃত্যুর তিন মাস পর তার হাতে গড়া সাংস্কৃতিক সংগঠনটি পেল নতুন নেতৃত্ব। নির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব পালন করা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডা. সারওয়ার আলীকে এবার পূর্ণাঙ্গ সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে ছায়ানট।
শুক্রবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় ছায়ানটের কার্যনির্বাহী সংসদ পুনর্গঠন করা হয়। এ সভায় সভাপতির পদে সারওয়ার আলীর নাম ঘোষণা ছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়।
সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খায়রুল আনাম শাকিল এবং পার্থ তানভীর নভেদ্। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আগের মতোই দায়িত্ব পালন করবেন লাইসা আহমদ লিসা। যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জয়ন্ত রায় ও তানিয়া মান্নান, কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন নাসেহুন আমীন।
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন: মফিদুল হক, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, নাহাস খলিল, আমিনুল কাওসার দীপু, সাহানা আক্তার রহমান পাপড়ি, মাসুদা নার্গিস আনাম কল্পনা, জুবায়ের ইউসুফ, গৌতম সরকার, জেসমিন বুলি ও সেমন্তী মঞ্জরী।
সভায় প্রয়াত সন্জীদা খাতুন ও নুরুন্নাহার আবেদীনের জায়গায় ট্রাস্টি বোর্ডে নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন সাঈদা কামাল ও রুচিরা তাবাস্সুম নভেদ্।
সভায় ছায়ানটের সাংস্কৃতিক আদর্শ ও লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, বাঙালির জাতিসত্তা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি সহনশীল সমাজ গঠনে ছায়ানট অবিচল। এছাড়া, বাংলা গানের শুদ্ধ চর্চা ও বিস্তারে আরও গতি সঞ্চারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সভায় গাজায় চলমান ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা জানানো হয় এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সন্জীদা খাতুন ২৫ মার্চ ২০২৫ সালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর মাত্র দশ দিন আগে তিনি ৯২ বছর পূর্ণ করেছিলেন। তার দেহ দান করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য।
১৯৯৯ সালে সুফিয়া কামালের মৃত্যুর পর ছায়ানটের সভাপতির দায়িত্ব নেন সন্জীদা খাতুন। তিনিই ছিলেন সংগঠনের দ্বিতীয় সভাপতি। তার পর ছায়ানটের তৃতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ডা. সারওয়ার আলী।







