দেড়শতাধিক শিক্ষক এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে স্থির প্রত্যয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তন। দেশ এবং বিশ্বে চলমান সামাজিক বিদ্বেষের মুখে এবারে ছায়ানটের আহ্বান–‘বিশ্বমানব হবি যদি… সম্পূর্ণ বাঙালি হ’। এই অঙ্গীকার উচ্চারণে আগামি ২ মার্চ সংগীতবিদ্যায়তনের পুরনো সহযাত্রীদের একত্র করে আয়োজিত হচ্ছে মিলনোৎসব প্রাক্তনী সম্মিলন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছায়ানটের পক্ষে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আবহমান বাঙালি ঐতিহ্যের সম্প্রীতির প্রত্যাবর্তন এবং মানবতাবোধের পুনর্জাগরণে শামিল হতে ডাক দিচ্ছে ছায়ানট। তাদের বিশ্বাস, সমাজ ও সংস্কৃতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রাক্তনী সম্মিলন তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
বাংলার সংগীতসংস্কৃতির চর্চা ও শিক্ষার্থীদের বাঙালি জাতিসত্তায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ছায়ানট ১৯৬৩ সালে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তন প্রতিষ্ঠা করে। জন্মাবধি ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তন রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীতসহ মূলধারার বাংলা গানের রসাস্বাদন এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যকলা ও শুদ্ধসংগীতের নানান ধারার পাঠদানে নিমগ্ন। সংগীতের সুর-ছন্দ-বাণীর পাশাপাশি নিরলস প্রয়াস চলছে সকলের মধ্যে সংস্কৃতিমানস গড়ে তুলবার, সম্প্রীতির সমাজ অটুট রাখতে সকলকে অনুপ্রাণিত করবার। অতীত ও বর্তমানের সকল সঙ্গীকে নিয়ে এবারের লক্ষ্য, অতীত দিনের স্মৃতিতর্পণ এবং বর্তমানের প্রাসঙ্গিকতায় ফেলে আসা এবং বর্তমান ও আগামীর পথের পর্যালোচনা ও ভাবনা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সম্মিলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রমে অন্তত দুবছর পাঠ নেওয়া দেশ ও প্রবাসের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক এবং সংগঠকদের। নিবন্ধন হচ্ছে সংস্কৃতি-ভবনে এবং অনলাইনে। নিবন্ধন চলবে জানুয়ারির শেষ দিন পর্যন্ত।
সারাদিনব্যাপী আয়োজনে থাকছে উদ্বোধন পর্ব, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সর্বোপরি, কেমন মানুষ ও দেশ গড়তে চাই, দেখতে চাই তা নিয়ে কথোপকথন। পরিকল্পনা আছে, সংগীতবিদ্যায়তনের আদি-মধ্য-চলতি পর্বের পথচলা নিয়ে বিদ্যার্থীদের বয়ানে স্মৃতিচারণমূলক একটি স্মরণিকা প্রকাশ করার। তবে সকলের জন্য খুব সম্ভব সব থেকে আনন্দের হবে সঙ্গীদের সঙ্গে হৈ হৈ করে খোলা কণ্ঠে গান গেয়ে, মুক্ত মুদ্রায় নেচে, বাদ্য বাজিয়ে জমায়েতকে ছন্দোবদ্ধ করায় এবং নির্মল আড্ডা দেওয়ায়।








