ছোটপর্দার তারকা অভিনেত্রী হুমায়রা হিমুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিনয় শিল্পী সংঘ জানায়, আত্মহত্যা নাকি হত্যা; এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে সহকর্মী অভিনেত্রীকে হারিয়ে শোকের মাতম চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নির্মাতা থেকে অভিনয়শিল্পী, সবাই হিমুর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। এরমধ্যে অন্যরকম আফসোসের কথা লিখে জানালেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী।
ফেসবুকে তিনি লিখেন, প্রিয় হিমু। যদিও তোমার সাথে অনেকদিন কথা হয়নি,তাও এক বছর হলো। কিন্তু কাজটা তুমি একদম ভালো করোনি। ভীষণ রাগ হচ্ছে। যত যাই হোক, জীবন একটাই আর জীবন সুন্দর। বেঁচে থাকাটা অনেক আনন্দের।
এসময় আফসোস করে চয়নিকা লিখেছেন,“আসলেই তুমি একটা অন্যায় কাজ করেছ নিজের উপর। একা একা চলে গেলে? নিজে নিজেই? তোমার আশে পাশের মানুষ একদম ভালো ছিল না। তোমাকে বকাও দিয়েছিলাম। আজ মনে হচ্ছে, বকাটা কন্টিনিউ করতাম যদি!”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে চ্যানেল আই অনলাইনকে হুমায়রা হিমুর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন অভিনয় শিল্পী সংঘের আইন ও কল্যাণ সম্পাদক এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর। তিনি জানান, একটু আগেই হোমায়রা হিমুর মৃত্যুর খবরটি শুনেছেন। উত্তরার একটি হাসপাতালে হিমুর মরদেহ রাখা। সেখানে গিয়ে মৃত্যুর কারণ সহ বিস্তারিত তথ্য জানানোর কথাও বলেন তিনি।
এদিকে হিমুর মৃত্যুকে ‘রহস্যজনক’ হিসেবে দেখছেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হিমুকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা সেটা বলা যাচ্ছে না।
টিভি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছেন। ছোটপর্দার পাশাপাশি সিনেমাতেও তার উপস্থিতি দেখা গেছে। মোরশেদুল ইসলামের ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ সিনেমার মাধ্যমে সিনেমায় পা রাখেন। এরপর বেশকয়েকটি ছবিতে কাজ করেছেন। তার অভিনীত মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘তোরে কত ভালোবাসি’, ছবিটি পরিচালনা করেছেন দেওয়ান নাজমুল।
হুমাইরা হিমু ১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইস্পাহানি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। হিমু ইডেন মহিলা কলেজে ভর্তি হন এবং এ কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। মঞ্চনাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম নাট্য জগতে প্রবেশ করেন।
ঢাকা/এমটিএল







