“চলচ্চিত্র নির্মিত হয় কয়েকটি দিক মাথায় রেখে। প্রচার বাণিজ্য যেমন জড়িত, তেমনি কিছু ছবি নির্মিত হয় শিল্পের জন্য। দর্শক দেখুক বা না দেখুক শিল্পের প্রতি দায় আছে বলে শিল্প চর্চা ও নির্মাণের প্রচেষ্টা থাকে। এর বাইরে কিছু ছবি নির্মিত হয় যেটা দায় ও আদর্শের জায়গা থাকে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো দায় ও আদর্শের জায়গা থেকে নির্মিত হয়। তিনি যে মাপের মানুষ তাকে নিয়ে আরও বেশি সিনেমা হওয়া উচিত।”
কথাগুলো অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর। সোমবার বিকেলে এফডিসিতে মুশফিকুর রহমান গুলজার পরিচালিত ‘দুঃসাহসিক খোকা’ ছবির পোস্টার ও ৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সেখানে উপস্থিত থেকে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছবি করতে আমাদের অনেক দায় আছে। কিন্তু সেটা পূরণ করতে পারিনি। এজন্য জাতির পিতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। কারণ আমরা তাকে যথাযথভাবে সম্মান দিতে পারিনি।
চঞ্চল চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি বহুল প্রচারিত ছবি যেটি হাজার কোটি টাকার বেশি লগ্নী উঠেছে। সেই ছবিটি অর্ধেকের বেশি দেখিনি বা দেখতে ইচ্ছে করেনি। ছবিটির নাম আর বললাম না। আমরা আসলে কিসের পিছনে ছুটছি? আমরা কি আদর্শের সঙ্গে আছি?
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর যে অবদান ও আদর্শ রেখে গেছেন সেগুলো কি আমরা নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাই? হয়তো কারো বাবা মা এগুলো ধরে শেখান। কিন্তু সামগ্রিকভাবে তার আদর্শ আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়নি। যে মানুষটি শুধু নিজে নন, দেশের জন্য গোটা পরিবারের সবাইকে নিয়ে জীবন দিয়েছেন, তাকে গুরুত্ব দিন। হাজার কোটি ব্যবসা করা ছবিটিকে গুরুত্ব দেয়ার মত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বানানো ছবির প্রতি গুরুত্ব দিন। তাকে নিয়ে ছবি নির্মিত হলে যদি আমরা গুরুত্ব না দেই তাহলে আমাদের দায় কোথায়? আমরা কিসের বাঙালি?
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী অবলম্বনে একাধিক ছবি নির্মিত হলেও নির্দিষ্টভাবে তার কৈশোরকাল উঠে আসেনি রুপালি পর্দায়। নির্মাতা মুশফিকুর রহমান গুলজার তুলে আনছেন মহান এই নেতার কৈশোরকাল। জন্ম থেকে কৈশোর ও যৌবনের (১৯২০-১৯৩৮) এই সময়ের শেখ মুজিবকে নিয়ে তিনি নির্মাণ করলেন ‘দুঃসাহসী খোকা’।
পরিচালক গুলজার জানান, সরকারি অনুদানে নির্মিত এ ছবিটি ৮ সেপ্টেম্বর ‘দুঃসাহসী খোকা’ সিনেমা হলে মুক্তি পাবে। ইতোমধ্যে এর সেন্সর হয়ে গেছে। যারা দেখেছেন সবাই প্রশংসা করছেন।








