স্বঘোষিত ‘স্পেশাল ওয়ান’ হোসে মরিনহো, বাজিমাত করে আবারও শিরোনামে। পর্তুগিজ কোচ কঠিন সমীকরণে উতরে নিয়েছেন বেনফিকাকে। শক্তিশালী রিয়াল মাদ্রিদকে শুধু হারালে চলত না, ব্যবধান রাখতে হতো ২ গোলের, নয়ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়। সেটাই করে দেখিয়েছে মরিনহোর দল। তার ইশারা পেয়ে গোলরক্ষকও গোল করেছেন, পর্তুগিজ ক্লাবটি পৌঁছে গেছে প্লে-অফে।
রিয়ালের সমীকরণ ছিল তুলনামূলক সহজ। ড্র করলে সরাসরি নকআউটে, তথা শেষ ষোলোতে। অন্যদিকে বেনফিকা পয়েন্ট টেবিলে একদম টানটান অবস্থানে। ম্যাচের ৯০ মিনিট পর্যন্ত বেনফিকা এগিয়ে ৩-২ গোলে। লিসবনের ক্লাবটি শেষ মুহূর্তে গোল করতে না পারলে জিতেও ছিটকে যাবে। যোগ করা সময় ইতিমধ্যে দুটি লাল কার্ড দেখে ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ, লস ব্লাঙ্কোসরা হয়ে গেছে ৯ জনের দল। শেষ সময়ে বেনফিকার আসরে টিকে থাকতে প্রয়োজন ১টি গোল, অন্যদিকে প্লে-অফ এড়িয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করতে রিয়ালেরও দরকার একটি গোল, ম্যাচের আর কিছু মিনিট বাকি।
ম্যাচ যখন ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা ৭ মিনিটে, তখন ফ্রি-কিক পায় বেনফিকা। শট নিতে আসেন ফ্রেডরিক অরসনেস। সেই মুহূর্তে বেঞ্চ থেকে হাতের ইশারায় গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রুবিনকে পোস্ট ছেড়ে রিয়ালের গোলবারে যেতে বলেন মরিনহো। পরে হেডে গোল করেন বেনফিকার গোলরক্ষকই, ৪-২ হয়। ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় মরিনহোর দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছিটকে পড়া থেকে উঠে যায় প্লে-অফে। ঠেকিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদের নকআউট।

মার্শেই থেকে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল মরিনহোর শিষ্যরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষদিনে ক্লাব ব্রুগের কাছে ফরাসি ক্লাবটি ৩-০ গোলে হারলে পয়েন্টে সমতায় ফেরে বেনফিকা। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মার্শেই, সেই ব্যবধান টপকাতে বেনফিকার দরকার ছিল ২ গোলের ব্যবধানে জয়। রিয়ালের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেটাই করে দেখাল মরিনহো বাহিনী।
এরআগে লিসবনে ম্যাচের ৩০ মিনিটে কাইলিয়ান এমবাপের গোলে লিড পায় লস ব্লাঙ্কোসরা। ৩৬ মিনিটে আন্দ্রেয়াস স্কজেলডেরুপ গোলে সমতায় ফেরে বেনফিকা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা, গোলে করেন ভ্যাঞ্জেলিস পাভলিডিস। ২-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় বেনফিকা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে স্কজেলডেরুপ জোড়া গোলে ব্যবধান দিগুণ হয় পর্তুগিজ ক্লাবটির। ৫৮ মিনিটে অবশ্য ব্যবধান কমান এমবাপে, করেন দ্বিতীয় গোলটি। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময় রাউল আসেনসিও এবং রদ্রিগো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তখনও বেনফিকার প্লে-অফ নিশ্চিত হয়নি, অল্প সময়ের মধ্যে সেই কঠিন সমীকরণ সমাধান করে ফেলেন মরিনহো। ম্যাচ শেষে গোলরক্ষক ট্রুবিন বলেছেন, ‘জীবনে একবারই।’
ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে স্মরণ করে ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন মরিনহো। বলেছেন, ‘যেভাবে উদযাপন করেছি তার জন্য ক্ষমা চেয়েছি, আলভারো একজন ফুটবলপ্রেমী এবং বোঝে যে সেই মুহূর্ত আবেগে ভেসে যাওয়ার। এ রাত ভোলার নয়।’
অবিশ্বাস্য ম্যাচে ব্যাপারে বলেছেন, ‘বিশেষ করে তরুণ বেনফিকা ভক্তদের কথা ভাবি। এটি একটি অবিশ্বাস্য রাত ছিল এবং খেলোয়াড়রা একটি অসাধারণ ম্যাচ খেলেছে। অনেক ম্যাচ জিতেছি এবং হেরেছি, কিন্তু গোলরক্ষকের শেষ মুহূর্তের গোলে কখনও জিততে পারিনি।’







