ফুটবল ইতিহাসের বিতর্কিত এক ম্যাচের সাক্ষী হয়ে রইল বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম। টাইব্রেকার গড়ায় সাডেন ডেথে। দুই দলই লক্ষ্যভেদে বারবার সক্ষম হওয়ায় ব্যবধান দাঁড়ায় ১১-১১। আকস্মিকভাবে ম্যাচ কমিশনার রেফারিকে ডেকে টস করতে বলেন। রেফারি দুই দলের অধিনায়ককে টসে ডাকেন।
মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের টুর্নামেন্টের ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা অমীমাংসিত থাকলে সরাসরি হবে টাইব্রেকার। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়াবে না। সেই মোতাবেক সবকিছু ঠিকঠাক এগোলেও ম্যাচ কমিশনার সিলভা জয়সুরিয়া বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দেন। টসের মাধ্যমে ফল নির্ধারণে বাধ্য করেন। যদিও টুর্নামেন্টের বাইলজে এমন কোনো নিয়মের অস্তিত্ব নেই।
টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জেতার পর ভারতের মেয়েরা আনন্দে মাতলেও স্বাগতিক দলের ফুটবলার কোচিং স্টাফ ও অফিসিয়ালরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ম্যাচ কমিশনার সিলভা জয়সুরিয়া দিলন ও রেফারিদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। স্বাগতিক দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার ও ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু শুরু করেন প্রতিবাদ।
শিরোপার উল্লাস শুরু করেছিল ভারতের ফুটবলারদের গ্যালারি থেকে দর্শকরা বোতল ছুঁড়ে মারতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খানিক পর ম্যাচ কমিশনার ভারতের টসের বিষয়টি বাতিল করে ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী সাডেন ডেথ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। তবে ভারতীয় দল এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে রাগে ক্ষোভে মাঠ ছেড়ে চলে যায়।
মূলত শ্রীলঙ্কান ম্যাচ কমিশনারের ভুলেই ঘটেছে এমন লঙ্কাকাণ্ড। নিয়মের তোয়াক্কা না করে সাডেন ডেথ না চালিয়ে তিনি টসের পথে হাঁটেন । এরপর তিনি ভুল স্বীকার করলেও ভারত আর সাডেন ডেথে যেতে চায়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে ফল নিয়ে মহানাটক। পরে আপসের মাধ্যমে দুই দল যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিষয়টি মেনে নেয়।
পরে সাফের স্বার্থে দুই দলকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল। টুর্নামেন্টের বাইলজে এমন নিয়ম না থাকলেও প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, ‘ম্যাচ কমিশনারের ভুলে এটা হয়েছে। পরবর্তীতে ম্যাচ কমিশনার ও আমাদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রস্তাব ছিল। ম্যাচ বাতিল করা, যুগ্ম শিরোপা অথবা আবার সাডেন ডেথ শুরু করা। ভারত কোনো প্রস্তাবেই রাজি ছিল না। এরপর নানা আলোচনার পর যুগ্ম চ্যাম্পিয়নে সম্মত হয়েছে। সাফের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’







