বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আয়োজনে ও বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চকবাজার কিংস। ৩০ বছর পর পুরান ঢাকার কোনো ক্লাব দ্বিতীয় বিভাগ লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
বুধবার কমলাপুর শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে হয় লিগের শেষ খেলা। গ্রিন ওয়েল ফেয়ার সেন্টার মুন্সীগঞ্জকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয় উদযাপন করে চকবাজার। যদিও দলটির শিরোপা আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।
১৪ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা তৃতীয় বিভাগের শীর্ষস্থানে থেকে লিগ শেষ করা চকবাজার আগামী মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগ লিগে খেলবে। সমান খেলায় ৩০ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের দুই নম্বরে থাকা ইলিয়াস আহমেদ স্মৃতি সংসদও কেটেছে দ্বিতীয় বিভাগের টিকিট।
খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য ও মহানগর লিগ কমিটির সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন।
চকবাজার কিংসের অধিনায়ক হাসান মিয়ার মতে দলের এই সাফল্য হবে আগামীতে পথ চলার অনুপ্রেরণা। বললেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সবারই ভালো লাগে। আমরা যাতে জাতীয় পর্যায়ে ভালো করতে পারি, এটাই আমাদের স্বপ্ন। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন আছে।’
লিগের সর্বাধিক গোলদাতা চকবাজারের রাতুল। ১১ গোল করা ফুটবলারও চোখেও আগামীতে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন। সরল কণ্ঠে তার ভাষ্য, ভালো পারফরম্যান্সের পেছনে আমার বিকেএসপির কোচ রবিউল স্যার ও একাডেমি কোচ মীর বজলুর রহমানের অবদান আছে। বাবা-মা সমর্থন না দিলে এত দূর আগাতে পারতাম না। বাংলাদেশের হয়ে ফরোয়ার্ড লাইনে কাজ করতে চাই।
সিলেট বিকেএসপির খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া চকবাজার কিংসের কোচ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই ছেলেদের সঙ্গে দুই বছর ধরে আছি। ওরা কেউ অষ্টম, কেউ নবম শ্রেণিতে পড়ে। ওরা ঢাকার মাঠে এবারই প্রথম টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছে এবং তারা সফল। দ্বিতীয় বিভাগে এই দলটাকেই রাখার চেষ্টা করব। আমাদের পাইপলাইনে আরও অনেক খেলোয়াড় আছে। এই দলের উপর বাফুফের নজর আছে। এলিট একাডেমিতে তাদের আশার সম্ভাবনা আছে।’
তৃতীয় বিভাগ লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ক্লাবটির কর্ণধার হাজী টিপু সুলতান বলেন, ‘৩০ বছর পর পুরান ঢাকার কোনো দল দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত হল। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের জন্য বিরাট বড় চমক। এই চমককে কাজে লাগিয়ে আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। দ্বিতীয় বিভাগ থেকে দলটাকে প্রথম বিভাগে নেয়ার জন্য প্রত্যেক কর্মকর্তা উদগ্রীব, সবাই নিবেদিত।’







