একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রার্থীর এক কর্মীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আব্দুর রহমান।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. রুহুল আমিন, তৎকালীন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া, বন্দর থানার ওসি মোস্তফা কামাল হায়দারসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
মামলার বাদী মো. মশিউল আলম খান পলাশ, যিনি বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সারাদেশের মতো বরিশাল-৫ আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবে প্রচারণা চালাতে পারেননি। বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার-এর সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সময় সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকায় লিফলেট বিতরণের উদ্দেশ্যে রওনা হলে স্পিডবোটে ধাওয়া করা হয়।
পলাশের দাবি, বিশ্বাসের হাট এলাকায় পৌঁছালে নদীর ভেতর থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা তাকে অপহরণ করে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে নির্যাতন চালায়। পরে তাকে বন্দর থানায় নিয়ে কয়েকটি ‘মিথ্যা’ মামলায় আসামি করা হয়। নির্যাতনের কারণে এখনও তিনি শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, গত ৫ আগস্ট আদালতে মামলা দায়ের করলে প্রথমে বন্দর থানাকে মামলা রুজুর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তদন্ত শেষে ঘটনাস্থল কোতোয়ালী মডেল থানার আওতায় দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এতে তিনি ‘নারাজি’ দিলে দীর্ঘসূত্রতার পর রোববার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোতোয়ালী মডেল থানায় এফআইআর হিসেবে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।








