মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার চাপা দেয় রিকশাকে। রোববার রাত ৮টার দিকের ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় রিকশাচালক, আরোহী ফয়সাল ও তার স্ত্রী আফরোজা মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনায় গাড়িচালক ও আরোহীর নামে একটি মামলা হয়েছে এবং তাদের ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিল অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র।
যে বাড়ির সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে, ওই বাড়ির সামনে থাকা ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ধারণ করা ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে দেখা যায়, একটি রিকশা সড়কের এক পাশ দিয়ে চলছিল। অপরদিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার রাস্তার মোড় ঘুরেই ভুল লেনে এসে রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাসহ গাড়িটি অপর পাশের ফুটপাতে উঠে সেখানে থাকা গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে রিকশাচালক ও যাত্রীরা গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। আর আফরোজা গুরুতর আহত হয়ে এখন আইসিইউতে।
আহতের স্বজন ও স্থানীরা জানান, ইমরান রেজা ও আফরোজা আহমেদ মোহাম্মদপুরে থাকেন। আফরোজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছেন। তার স্বামী ইমরান পেশায় প্রকৌশলী। ঘটনার দিন তারা চিকিৎসকের কাছ থেকে রিকশায় বাসায় ফিরছিলেন। রিকশাটি সড়কের এক পাশ দিয়ে চলছিল। তারা বাসার কাছাকাছি ছিলেন। এ সময় অপরদিক থেকে আসা একটি গাড়ি তাদের বহনকারী রিকশাকে চাপা দেয়।
এতে যাত্রী ইমরান রেজা (৩৮), স্ত্রী আফরোজা আহমেদ (৩৪) ও রিকশাচালক হাবিবুর রহমান (৪৫) গুরুতর আহত হন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আফরোজা ও ইমরানের তিন বছর বয়সি মেয়ে এনায়া রেজাও আহত হয়।
আহত আফরোজার বড় বোন দিনা বলেন, আফরোজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। তার স্বামী ইমরান পেশায় একজন প্রকৌশলী। তারা মোহাম্মদপুরে থাকেন। তাদের সাত বছর ও তিন বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। বর্তমানে আমার বোন জামাই শ্যামলী ট্রমা সেন্টার এবং আমার বোন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমার ভাগনির তেমন কিছু হয়নি। সে বর্তমানে বাসায় আছে।
তিনি বলেন, আফরোজার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। আগামীকাল (বুধবার) তার মেরুদণ্ড ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হবে।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেছেন আহত ইমরানের বাবা রফিকুল ইসলাম।
ঘটনার পরই স্থানীয়রা গাড়িতে থাকা দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিল অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোর। সালমান হায়দার নামে এক তরুণ তাকে গাড়ি চালাতে দিয়েছিলেন। সালমানের বাসা মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে। আর কিশোরটির বাসা মোহাম্মদপুরের শের শাহ শূরি রোডে।
ওই কিশোরের মা একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, সালমান কিশোরটিকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, সালমানের বাসা মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে। কিশোরটির বাসা মোহাম্মদপুরের শের শাহ শূরি রোডে। ঘটনার দিন গাড়িটি চালাচ্ছিল ওই কিশোর। তাকে গাড়ি চালাতে দিয়েছিলেন সালমান।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত সুজিত কুমার সাহা জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা এক কিশোর এবং সালমান নামের এক তরুণকে আটক করে। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মৃত্যুঞ্জয় দে বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আর তরুণকে আটক করা হয়েছে। কিশোরটি শিশু (কিশোর) উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। আর তরুণ কারাগারে।








