সকালের এক কাপ কফি নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে নানা ধরনের দ্বিধা। ঘুমের ব্যাঘাত, উদ্বেগ বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ কফি এড়িয়ে চলেন। তবে পরিমিত পরিমাণে এবং অতিরিক্ত চিনি বা ক্রিম ছাড়া কফি পান করলে এর কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. বর্তিকা বিশ্বানি।
রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ডা. বিশ্বানি জানান, তিনি প্রতিদিন ব্ল্যাক কফি পান করেন। তার মতে, নিয়মিত ও পরিমিত কফি পান দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য কিছু ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্ল্যাক কফির ৬ সম্ভাব্য উপকারিতা: প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে করা একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে ডা. বিশ্বানি বলেন, যারা দিনে ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৫ কাপ কফি পান করেন, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি কফি পান না করা ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দেখা গেছে। বিভিন্ন গবেষণায় কফি পানকারীদের হৃদরোগ, লিভারের রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের মতো কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞের মতে, দিনে প্রায় ৩ থেকে ৪ কাপ কফি পান করলে এসব রোগের ঝুঁকি কমার সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিদজাত সক্রিয় যৌগ প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় নিয়মিত কফি পানের সঙ্গে ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন অতিরিক্ত এক কাপ কফি পান করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ কমার সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ও পলিফেনলের মতো যৌগ শরীরের বিপাকক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।
কিছু গবেষণায় কফি পানের সঙ্গে লিভার ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আবার কোলোরেক্টাল ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কফি পানকারীদের বেঁচে থাকার হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলেও কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় দেখা গেছে। বড় আকারের কয়েকটি গবেষণায় নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে পারকিনসন রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কফির কিছু উপাদান মস্তিষ্কের ওপর সুরক্ষামূলক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
তাবে বিশেষজ্ঞের মতে, কফি কোনো ‘অলৌকিক’ পানীয় নয় এবং এটি সবার জন্য উপযুক্তও নয়। অনিয়ন্ত্রিত উদ্বেগ, কিছু ধরনের হৃদস্পন্দনের সমস্যা বা নির্দিষ্ট শারীরিক অসুস্থতা থাকলে নিয়মিত কফি পান শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত দিনে ৩ থেকে ৪ কাপ পর্যন্ত কফি প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনের সমপরিমান হতে পারে। তবে ক্যাফেইন সহ্য করার ক্ষমতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হওয়ায় নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতে, কফি কখনোই পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নয়। তাই কফি পান করলে পরিমাণের পাশাপাশি এতে অতিরিক্ত চিনি বা উচ্চ-ক্যালরির উপাদান যোগ করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা উচিত।
এসব তথ্য সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা বিশেষ পরিস্থিতিতে কফি পান উপযোগী কি না, তা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।








