মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানে সামরিক অভিযানে কানাডা জড়াতে পারে এমন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করেননি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। যদিও এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবেনিজের সঙ্গে যৌথভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কার্নিকে প্রশ্ন করা হয় কোন পরিস্থিতিতে কানাডা এই যুদ্ধে জড়াতে পারে কি না।
জবাবে তিনি বলেন, কোনো অংশগ্রহণের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করা যায় না। তবে তিনি এটিকে একটি কাল্পনিক প্রশ্ন বলেও উল্লেখ করেন।
কার্নি বলেন, আমরা আমাদের মিত্রদের পাশে থাকব এবং সবসময় কানাডিয়ানদের নিরাপত্তা রক্ষা করব।
এর আগে তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলাকে তিনি কিছুটা দুঃখের সঙ্গে সমর্থন করেছেন, কারণ এটি ভেঙে পড়া বৈশ্বিক শৃঙ্খলার একটি চরম উদাহরণ।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলার বিষয়ে কানাডাকে আগে থেকে জানানো হয়নি।
অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের আগে থেকে জানানো হয়নি এবং অংশ নেওয়ার জন্যও বলা হয়নি।
কার্নির মতে, প্রাথমিকভাবে এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা না করেই এবং কানাডাসহ মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে কি না এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অন্যদের নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে দেশে ফিরতে সহায়তা চেয়ে দুই হাজারের বেশি কানাডীয় নাগরিক সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
তিনি জানান, সহায়তার অনুরোধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এছাড়া কাতার থেকে ২৩০-এর বেশি, লেবানন থেকে অন্তত ১৬০, ইসরায়েল থেকে ৯০-এর বেশি এবং ইরান থেকে ৭৪ জন কানাডীয় সাহায্য চেয়েছেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে সেখান থেকে চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক এলাকায় এখনও বাণিজ্যিক ফ্লাইট কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর একটি দুবাই বিমানবন্দরসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় বড় বিমানবন্দরও সংঘাতের কারণে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ফলে কোভিড-১৯ মহামারির পর এটিই সবচেয়ে বড় ভ্রমণ বিঘ্ন হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সরকার নিজেদের নাগরিকদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে।







