সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আজ রোববার (৪ আগষ্ট) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি আজ।
গতকাল শনিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পাদদেশে এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, ছাত্র-জনতা হত্যাকাণ্ডের দায়ে এই সরকার ও তার মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হবে।
এদিন বেলা ১১টায় রাজধানীসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিক্ষোভ ও গণসমাবেশ পালিত হবে। এ সময় আরও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো-
বন্ধ থাকবে যেসব প্রতিষ্ঠান
* সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত ও কলকারখানা বন্ধ থাকবে। আপনারা কেউ অফিসে যাবেন না, মাস শেষে বেতন তুলবেন;
* শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে;
* দেশের কোনো কলকারখানা চলবে না;
* আমলারা সচিবালয়ে যাবেন না, ডিসি বা উপজেলা কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কার্যালয়ে না যাওয়ার অনুরোধ।
বিল পরিশোধ ও রেমিট্যান্স পাঠাতে মানা
* কেউ কোনো ধরনের ট্যাক্স বা খাজনা প্রদান করবেন না;
* বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিলসহ কোনো ধরনের বিল পরিশোধ করবেন না;
* প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে কোনো ধরনের রেমিট্যান্স দেশে পাঠাবেন না;
* টাকা পাচার বন্ধে সকল অফশোর ট্রানজেকশন বন্ধ থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে যেসব আহ্বান জানানো হয়েছে
* পুলিশ সদস্যরা রুটিন ডিউটি ব্যতীত কোনো ধরনের প্রটোকল ডিউটি, রায়ট ডিউটি ও প্রটেস্ট ডিউটিতে যাবেন না। শুধুমাত্র থানা পুলিশ নিয়মিত থানার রুটিন ওয়ার্ক করবেন;
* বিজিবি ও নৌবাহিনী ব্যতীত অন্যান্য বাহিনী ক্যান্টনমেন্টের বাইরে ডিউটি পালন করবেন না;
* বিজিবি ও নৌবাহিনী ব্যারাক ও কোস্টাল এলাকায় থাকবেন।
বন্ধ থাকবে গণপরিবহন, সভা-সেমিনার বর্জনের আহ্বান
* সকল ধরনের সরকারি সভা, সেমিনার, আয়োজন বর্জন করবেন;
* বন্দরের কর্মীরা কাজে যোগ দেবেন না, কোনো ধরনের পণ্য খালাস করবেন না;
* গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, শ্রমিকরা কেউ কাজে যাবেন না।
ব্যাংক খোলা থাকবে রোববার, বন্ধ থাকবে হোটেল-রেস্টুরেন্টও
* জরুরি ব্যক্তিগত লেনদেনের জন্য প্রতি সপ্তাহের রোববার ব্যাংকগুলো খোলা থাকবে;
* বিলাস দ্রব্যের দোকান, শো-রুম, বিপণিবিতান, হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকবে।
চালু থাকবে জরুরি সেবাখাত
* হাসপাতাল, ফার্মেসি, জরুরি পরিবহন সেবা যেমন- ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, ফায়ার সার্ভিস, গণমাধ্যম, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহন, জরুরি ইন্টারনেট সেবা, জরুরি ত্রাণ সহায়তা এবং এ খাতে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহন সেবা চালু থাকবে;
* নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানপাট বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত খোলা রাখার আহ্বান।
এর আগে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শুধু শিক্ষার্থী নয়, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে। একসময় ওই এলাকা রূপ নেয় জনস্রোতে। ছাত্র-জনতার নানা স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে চারপাশ।
গতকাল সকালে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি, উত্তরা, রামপুরা, মিরপুর, শান্তিনগর, আফতাবনগর, প্রগতি সরণি, বাড্ডা, শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীরা জড়ো হন। কোথাও কোথাও আন্দোলনকারীর সঙ্গে অভিভাবকরাও ছিলেন। ঢাকার অনেক এলাকায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় দেখা গেলে কোথাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়নি।







