গত বছর জুন মাসে সুনিতা উইলিয়ামস এবং তার সঙ্গী বুচ উইলমোর মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। তারপর থেকে তাদের ঠিকানা ছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)। অবশেষে ৯ মাস (২৮৬ দিন) পর তারা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, আজ (১৯ মার্চ) বুধবার ভোর ৬টার দিকে (বাংলাদেশ সময়) তাদের নিয়ে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের মহাকাশযান ফ্লোরিডার সমুদ্রে অবতরণ করে। মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে সুনিতা ও বুচের এই প্রত্যাবর্তন নিরাপদে হয়েছে বলে নাসা জানিয়েছে। সুনিতা ও বুচের সঙ্গে একই মহাকাশযানে ফিরেছেন নাসার নিক হ্যাগ এবং রুশ নভোচারী আলেকজান্ডার গর্বুনভ।

গত বছর জুন মাসে সুনিতা ও বুচ মহাকাশযানে করে আইএসএস-এ পৌঁছান। মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে (বাংলাদেশ সময়) সুনিতা ও বুচকে নিয়ে আইএসএস ছেড়ে স্পেসএক্সের ড্রাগন যান পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা দেয়। বুধবার আটলান্টিক মহাসাগরের ফ্লোরিডা উপকূলে মহাকাশযানটি নিরাপদে অবতরণ করে। মহাকাশচারীদের উদ্ধারের জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর বোট সেখানে পৌঁছে যায়।
এরপর মডিউল সহ মহাকাশচারীদের জাহাজের কাছে নিয়ে আসা হয়। হাইড্রোলিক পদ্ধতিতে তাদের জাহাজে তোলা হয়। ড্রাগন ক্যাপসুলের দরজা খোলার পর প্রথমে বেরিয়ে আসেন নিক হ্যাগ। প্রায় ৫ মিনিট পর হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন সুনিতা উইলিয়ামস। এরপর জাহাজটি স্থলভাগের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে মহাকাশচারীদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে।

তবে পৃথিবীতে ফিরলেও এখনই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না মহাকাশচারীরা। তাদের ক্রু কোয়ার্টারে রাখা হবে। সেখানে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলবে। এরপরই পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি মিলবে। সুনিতা ও বুচের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের খবরে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে উৎসাহ ও উন্মাদনা দেখা গেছে।
মহাকাশচারীদের অবতরণের পর নাসার পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সম্মেলনে নাসার উপ-সহযোগী প্রশাসক জোয়েল মন্টালবানো এবং কার্যক্রম সমন্বয় ব্যবস্থাপক বিল স্পিচ বলেন, নাসার গর্বের সঙ্গীরা নিরাপদে অবতরণ করেছেন। ৯ মাসে ৯০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ১৫০টির বেশি গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে।

৫ জুন সুনিতা ও বুচকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বোয়িং স্টারলাইনার। আট দিনের সফরে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু মহাকাশযানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তাঁরা আটকে পড়েন। এরপর একাধিকবার তাদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তা পিছিয়ে যায়। আট দিনের সফর দীর্ঘায়িত হয়ে নয় মাসে পরিণত হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলন মাস্ককে সুনিতা ও বুচের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তদারকি করার অনুরোধ করেন। এরপর স্পেসএক্সের মহাকাশযান পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।







