নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষী এলাকায় গরু ব্যবসায়ী দিদারুল আলম বেচু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গাছের ডাল ও একটি ছুরি। ছিনতাইয়ের সময় বাধা দেয়ায় গ্রেপ্তারকৃতরা সহ কয়েকজন বেচুকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে। তবে এ ঘটনার মূল নেতৃত্বদানকারি লুটের টাকা ও মোবাইল সহ এখনও পলতাক রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১টায় জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হচ্ছেন, চরলক্ষী গ্রামের বেলাল হোসেন, একই গ্রামের রাশেদ, মাইন উদ্দিন মিষ্টু, মহিন উদ্দিন চাঁন মিয়া ও লোকমান হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত ৬ মার্চ সোমবার সকালে স্থানীয় ছমিরহাট বাজারে গরু বিক্রি করতে যায় দিদারুল আলম বেচু। বাজারে গরু বিক্রি করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি অটোরিকশা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলো সে। তার অটোরিকশাটি চরলক্ষী গ্রামের গোলাম মাওলার কিল্লা এলাকায় পৌঁছলে ৭ থেকে ৮জন তার টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। এসময় তাদের বাধা ও টাকা দিতে না চাইলে প্রথমে গাছের ডাল দিয়ে বেচুর মাথা, কপাল ও চোখ সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে এবং পরে ধারালো ছুরি দিয়ে তার শরীরে জখম করে টাকা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন গুরুত্বর আহত অবস্থায় বেচুকে উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করে। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ মার্চ শুক্রবার ভোরে আলম বেচু মারা যায়।
পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের বড় বোন বিবি আয়েশা বাদি হয়ে অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে চরজব্বর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরবর্তী কালে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত ৫জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গাছের ডাল ও ছুরি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে দুই জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাই এবং হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ ঘটনার মূল নেতৃত্বদানকারি সহ অপরদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে।







