মাদক সাম্রাজ্য বিস্তারে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে খুলে মোহাম্মদপুরের বসেছে বিস্ফোরক কারখানা। কারখানাটি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের মাদক সম্রাটখ্যাত সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেলের আস্তানা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
কারখানায় সেনাবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রস্তুত, আধাপ্রস্তুত ৩৭টি ককটেল। সেইসঙ্গে গানপাউডারসহ ককটেল তৈরির অন্যান্য সরঞ্জাম, ১ কোটি ১৩ লাখ টাকাসহ টাকা গণনার মেশিন এবং দেশি অস্ত্র আর বিপুল মাদক।
গত শুক্রবার রাতের অভিযানে উদ্ধার অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক জব্দ দেখিয়ে পরদিন শনিবার মোহাম্মদপুর থানায় বিস্ফোরক ও মাদক আইনে দুটি মামলা করেছে থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুল ইসলাম।
ওই রাতে অভিযানে থাকা সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন বুনিয়া সোহেলকে ধরতে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু এ খবর আগেই পেয়ে যায় সোহেল। ক্যাম্পে আভিযানিক দল পৌঁছামাত্র পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যায় বুনিয়া সোহেল। ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘যৌথ বাহিনী নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তারা সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন বন্ধ করে দেয় এবং সেই বাসার বিভিন্ন দরজা, জানালা ও ছাদ দিয়ে বেরিয়ে পালিয়ে যায়। যেহেতু পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায় এবং জায়গাটি অনেক সংকীর্ণ ও একটি বিল্ডিংয়ের সঙ্গে আরেকটি বিল্ডিং লাগানো, তাই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, জেনেভা ক্যাম্পের সাত নম্বর সেক্টরের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, মাদক, টাকা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি তাজা ককটেল, ২৫টি আধাপ্রস্তুত ককটেল, ৪০০ গ্রাম গানপাউডার, দুটি সামুরাই, ১২টি হকিস্টিক, ২৯টি হেলমেট, দুটি ড্রাগন লাইট, ১১ কেজি গাঁজা, ১২ প্যাকেট হেরোইন, ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং টাকা গণনার একটি যন্ত্র।
ক্যাম্পের বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় বুনিয়া সোহেল। অবশ্য এর ছয় মাস পরই জামিনে বেরিয়ে আসে। তারপর ফের পূর্ণ উদ্যমে লেগে যায় পুরোনো মাদক সাম্রাজ্যের বিস্তারে। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা, বিস্ফোরক, মাদক মামলাসহ মোট ৩৮টি মামলা রয়েছে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পরপরই বুনিয়া সোহেল আবার ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অপরাধ কার্যক্রম শুরু করে। গত ১২ আগস্ট বুনিয়া সোহেলের লোকজন জেনেভা ক্যাম্পে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করে।
জেনেভা ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে মাদক কারবার করে বুনিয়া সোহেল। এ কারণে অভিযানের আগাম খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। কিংবা তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়, সেখানে আইনি ফাঁকফোকর রাখা হয়। এতে ধরা পড়লেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসার সুযোগ থাকে।
মামলার বাদী ও মোহাম্মদপুর থানার এসআই ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অভিযানে ছিলাম না। টাকা ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সোহেল ও তার গ্রুপকে আসামি করা হয়েছে। আর ককটেলসহ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় চুয়া সেলিম ও তার গ্রুপকে আসামি করা হয়েছে। একই মামলায় দুই গ্রুপকে আসামি করা যায় না। তবে কার বাসা থেকে কী উদ্ধার হয়েছে, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’
সার্বিক বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন , ‘আমি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। টাকা ও ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। মাদক কারবারিদের মধ্যে কেউ যেন বাদ না যায়, সেভাবেই দুই গ্রুপের নামে মামলা করা হয়েছে। যদি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির নামে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্তের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হবে।’








