ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা বরাবরই সাধারণ মানুষকে খুব করে টানে। বিশ্বকাপে খেলার মাধ্যমেই কারোও স্বপ্ন পূরণ হয়, কারোও মনে জেগে ওঠে নতুন বাসনা, আবারও কেউ কেউ নায়কে পরিণত হন তার সময়ে। বুলগেরিয়া তেমনই এক নায়কের দেখা পেয়েছিল ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে যিনি গোলকিপার হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বকাপে নায়কে পরিণত হয়েছিলেন বুলগেরিয়ার মানুষের কাছে। তার নাম বোরিস্লাভ মিহাইলোভ। সম্প্রতি এ কিংবদন্তির জীবনাবসান হয়েছে।
আশি-নব্বই দশকে ফুটবলের নতুন তারকাদের চেনার উপায় ছিল বিশ্বকাপ। এখানকার মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এশিয়ান কাপ, নেশনস লিগ বা ইউরোর মত আসর ছিল না। ফলে বিশ্বকাপের মাধ্যমেই বড় বড় তারকাদের আবির্ভাব হতো। বোরিস্লাভ মিহাইলোভের আবির্ভাবও বিশ্বকাপের মাধ্যমে। বোরিস্লাভ তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন, যার একটিতে অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু তার উত্থান ও ব্যাপক প্রচার মূলত ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে। সেবার বুলগেরিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। যদিও সেমিফাইনাল দিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল বুলগেরিয়াকে। ১৯৮৬ সালে বুলগেরিয়ার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
গ্রুপপর্বের চমকে আর্জেন্টিনাকে হারানোর পর শেষ ষোলোতে মেক্সিকোকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল ফুটবল বিশ্বকে। মেক্সিকোকে হারাতে টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকিয়েছিলেন বোরিস্লাভ। বুলগেরিয়ার সাফল্যের শেষ সেখানেই ছিল না। কোয়ার্টার ফাইনালে ছিল আরও একটি চমক, তখনকার চ্যাম্পিয়ন লোথার ম্যাথিউসদের জার্মানিকে হারিয়ে ওঠে সেমিফাইনালে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল রানার্সআপ ইতালি। ব্যাজিওর জোড়া গোলের কাছে হেরেই রূপকথার বিশ্বকাপের শেষ হয় বুলগেরিয়ার। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল রোমারিও, বেবোতো আর কার্লোস দুঙ্গাদের ব্রাজিল। ওই আসরে সুইডেনে কাছে হেরে চতুর্থ হয়ে শেষ হয়েছিল বোরিস্লাভের বিশ্বকাপ যা তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাফল্য।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া ওই বিশ্বকাপের আগে তেমন পরিচিত ছিলেন না বোরিস্লাভ। তবে তখনই দেশের হয়ে শতাধিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার। মিহাইলোভের নেতৃত্বে ওই দলটিকে বুলগেরিয়ার ফুটবলের ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’ বলা হয়, যেখানে হ্রিস্টো স্টোইচকভ ছাড়াও ইয়ারদান লেচকভ এবং ক্রাসিমির বালাকভের মতো তারকারা ছিলেন। ছয়টি গোল করে যৌথভাবে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জিতেছিলেন তার সতীর্থ কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড স্টোইচকভ।
সংগঠক হিসেবেও দুর্দান্ত ছিলেন বোরিস্লাভ। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনে দীর্ঘকালীন সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ বুলগেরিয়ার সোফিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন বোরিস্লাভ। স্ট্রোক করার পর থেকে দীর্ঘ সময় কোমায় ছিলেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।







