‘২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো সকল স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি এগুলোর ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো প্রশংসনীয়। তবে সিগারেটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমাতে এর দাম একটু একটু করে না বাড়িয়ে এক ধাক্কায় অনেকখানি বাড়ানো দরকার। অর্থাৎ বাজেটে সিগারেটের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ‘বিগ পুশ’ দরকার।’
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ঢাকায় উন্নয়ন সমন্বয়ের উদ্যোগে সিগারেটে কার্যকর করারোপ বিষয়ে বাজেট-পরবর্তী নীতি-সংলাপে এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।
নীতি সংলাপে সম্মানীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, মূল্যস্ফীতির হারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সিগারেটের দাম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়ে এগুলোর ওপর কার্যকর হারে করারোপ করা গেলে একদিকে সিগারেটের ব্যবহার যেমন কমবে, অন্যদিকে তেমনি সিগারেট বিক্রি থেকে আসা করের পরিমাণও বাড়বে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে সিগারেট সংক্রান্ত প্রস্তাবনা ইতিবাচক হলেও এক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের প্রত্যশাগুলো পুরোপুরি প্রতিফলিত করা হয়নি বলে মত দেন সিটিএফকে-এর লিড পলিসি এডভাইজর মোস্তাফিজুর রহমান।
মহিলা আসন ২০-এর সংসদ সদস্য অপরাজিত হক মনে করেন, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সিগারেটের অভিশাপ থেকে সুরক্ষা দিতেই বাজেটে সহজলভ্য সিগারেটের দাম বেশি বেশি করে বাড়ানো দরকার। তামাক-বিরোধী নাগরিক সমাজের দাবির মুখে সিগারেটে কার্যকর করারোপে নীতি-নির্ধারকরা আগের তুলনায় মনোযোগী হয়েছেন বলে মনে করেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার। মহিলা আসন ৩৫-এর সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন বলেন যে, এবারের বাজেটে সিগারেটে কার্যকর করারোপ বিষয়ে নাগরিক সংগঠনগুলোর প্রস্তাবনাগুলো পুরোপুরি প্রতিফলিত না হলেও আগামীতে যেন হয়- তা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য ও নাগরিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।
সম্মানীয় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, সিগারেটে কার্যকর করারোপ নিশ্চিত না করা গেলে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। সমাপনি বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান আরও বলেন, নতুন অর্থবছরে তামাক-বিরোধীদের পরামর্শ মতে সিগারেটের দাম না বাড়ানোর কারণে সরকার বাড়তি ৬ হাজার কোটি টাকার মতো রাজস্ব আহরণের সুযোগ হারাবে। সিগারেটের স্বাস্থ্যগত ক্ষতি এবং সিগারেট থেকে বাড়তি রাজস্ব আহরণের সম্ভাবনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ বিষয়ে আরও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নীতি-নির্ধারকদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।








