ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্তে ১৩ জন বাংলাদেশী নাগরিককে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
শুক্রবার (৩০ মে) ভোর রাতে ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইন করা হয়। দুপুরে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবি জানায়, শুক্রবার আনুমানিক নয়টায় ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এর ছাগলনাইয়া বিওপির নিয়মিত টহলদল টহল পরিচালনাকালীন মথুয়া নামক এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে শিশু-বাচ্চাসহ ১৩ জন নাগরিককে দেখে সন্দেহ হলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৩ জন মহিলা এবং ৬ জন শিশু রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা বিভিন্ন সময় ইট-ভাটার কাজ করার জন্য ভারতে প্রবেশ করেছে। ৩০ মে রাত দেড়টার দিকে সীমান্ত পিলার ২১৯৪/৪-এস দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে প্রথমে হাত ও চোখ বেধে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে হাত ও চোখের বাঁধন খুলে কৌশলে বাংলাদেশে পুশইন করে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, রাতের অন্ধকার এবং এলাকা সম্পর্কে অবগত না থাকায় বাংলাদেশী নাগরিকরা মথুয়া এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে অবস্থান করে। আটককৃত সকলেই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা।
বিজিবি কর্তৃক উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা ও ঠিকানা নিশ্চিত করার জন্য ছাগলনাইয়া থানায় সোর্পদের করা হয়েছে।
ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম বলেন, গতরাত বারোটার সময় হঠাৎ সীমান্তের লাইট গুলো বন্ধ করে দেয়। আমাদের ধারণা করছিলাম, বৈরী আবহাওয়ার কারনে লাইট বন্ধ করেছে। পরে দেখি এই সময়ে ভারতের বিএসএফ ১৩ জন লোককে এদেশে পুশ ইন করেন। এখন তাদের নাম ঠিকানা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় ম্যাসেজ দেওয়া হয়েছে। তারা এদেশের লোক হলে তাদের ঠিকানায় পাঠাবো। আর যদি এদেশের লোক না হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফেনী ৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কোম্পানি কমান্ডার কর্তৃক বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডারকে মৌখিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক কর্তৃক প্রতিবাদলিপি পাঠানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।







