স্মৃতির মেঘলা এক সকাল। বনানীর কবরস্থানে খোঁড়া হচ্ছে কবর। একসময় সেই কবরেই শুয়ে পড়লেন এ কে রাতুল— বাংলা ব্যান্ড সংগীতের প্রতিশ্রুতিশীল এক নাম, প্রয়াত চিত্রনায়ক জসীমের মেজ সন্তান। তার চিরনিদ্রার শয্যা হয় বাবার কবরের পাশে।
রাতুলকে মাটি দেওয়ার পর বড় ভাই সামী ফেসবুকে লিখেছেন মাত্র একটি বাক্য, “I just buried my baby brother”। অর্থ্যাৎ ‘মাত্রই আমার ছোট ভাইটাকে কবর দিলাম’! বাক্য নয়, যেন বুকে চাপা কান্নার এক বিস্ফোরণ! অন্যদিকে ছোট ভাই রাহুল একটি ছবি শেয়ার করেন। যে ছবিতে দেখা যায়, আলোকির কনসার্ট মঞ্চে ওউন্ড এর রাতুল, তার বুকের ওপর রাখা একটি হাত!

সেই ছবির নিচে রাহুলের লেখা একটি ক্যাপশন “আমার ভাইয়ের বুকে আমার হাত”! খুবই সাদামাটা আর নিরর্থক দেখতে ছবিটি রাহুলের এই ক্যাপশনের জন্য যেন হয়ে উঠে নিঃশব্দে চিৎকার এর মতো! যেটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
চিত্রনায়ক জসীমের তিন ছেলে— সামী, রাতুল, রাহুল। বাবার মতো অভিনয়জগৎ নয়, তারা তিনজনই বেছে নিয়েছিলেন সুরের পথ। শৈশবে বাবাকে হারানো তিন ভাই একে অন্যের হাত ধরে বড় হয়েছেন, গড়ে তুলেছেন নিজেদের সংগীতজগত।
রাতুল ও সামী মিলে গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘ওউন্ড’। যেটি শুধুমাত্র একটি ব্যান্ড নয়, বরং তাদের স্মৃতি, সংগ্রাম ও আত্মার বহিঃপ্রকাশ। সেই ব্যান্ডের ড্রামার বড় ভাই সামী, এবং দলটির মূল ভোকালিস্ট, বেজিস্ট ছিলেন রাতুল। এছাড়াও তিনি ছিলেন সময়ের দক্ষ এক শব্দ প্রকৌশলী। অন্যদিকে রাহুল কাজ করছেন একজন ফ্রিল্যান্স মিউজিশিয়ান হিসেবে।
রবিবার (২৭ জুলাই) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অকালেই চলে গেলেন রাতুল। আর তার এমন প্রয়াণে যেন আবারও সবাই ফিরে গেলেন সেই ১৯৯৮ সালের অক্টোবরে, যেদিন আচমকাই মাত্র ৫৩ বছরে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন নায়ক জসীম!








