ব্রিটেনের রাজা কিং চার্লস তার ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। এক ব্যক্তিগত বার্তায় তিনি বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসার ফলে নতুন বছরে তার ক্যান্সার চিকিৎসার সময়সূচি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যেতে পারে।
স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সার প্রচারণার অংশ হিসেবে চ্যানেল ফোরে সম্প্রচারিত একটি পূর্ব-রেকর্ড করা ভিডিও বার্তায় রাজা বলেন, এই মাইলফলকটি আমার জন্য একটি ব্যক্তিগত আশীর্বাদ এবং ক্যান্সার চিকিৎসায় যে অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে তার প্রমাণ।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর এটি রাজা চার্লসের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সবচেয়ে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। যদিও তার ক্যান্সারের ধরন এখনও প্রকাশ করা হয়নি এবং চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। তবে বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে যে রাজা চিকিৎসায় “ব্যতিক্রমীভাবে ভালো সাড়া” দিচ্ছেন।
প্যালেস সূত্রে বলা হয়, রাজার আরোগ্য এখন একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চিকিৎসকরা তার চিকিৎসাকে “সতর্কতামূলক পর্যায়ে” নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে চিকিৎসার নিয়মিত উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যদিও তাকে সম্পূর্ণভাবে “নিরাময়” হয়েছে বলা হচ্ছে না।
ভিডিও বার্তায় ৭৭ বছর বয়সী রাজা বলেন, প্রাথমিক রোগ নির্ণয় খুব সহজভাবে জীবন বাঁচায়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই আমি জানি, এটি চিকিৎসা যাত্রাকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
দুই সপ্তাহ আগে ক্ল্যারেন্স হাউসে রেকর্ড করা এই বার্তাটি শুক্রবার রাতে চ্যানেল ফোরের স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সার শোতে প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানটি ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ।
রাজা চার্লস তার বক্তব্যে ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন এবং মানুষকে জাতীয় স্ক্রিনিং কর্মসূচিতে অংশ নিতে আহ্বান জানান। “আপনার জীবন, অথবা আপনার প্রিয়জনের জীবন, এর ওপর নির্ভর করতে পারে,” তিনি বলেন।
তিনি আরও জানান, ক্যান্সার রোগীদের সেবায় যারা থাকেন-চিকিৎসক, নার্স, গবেষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার রাজার ঘোষণাকে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,
“নতুন বছরে রাজার ক্যান্সার চিকিৎসা কমতে পারে—এই খবরে পুরো দেশ আনন্দিত।”

এখন পর্যন্ত রাজা তার অসুস্থতা নিয়ে খুব কমই প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তবে তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিদেশ সফর ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সার শোতে উপস্থাপক ডেভিনা ম্যাককল, অ্যাডাম হিলস ও ক্লেয়ার বাল্ডিংসহ একাধিক তারকা মানুষকে ক্যান্সার পরীক্ষা করাতে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯০ লাখ মানুষ এখনও এনএইচএস স্ক্রিনিং কর্মসূচি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে।
রাজা চার্লস বলেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তের সুযোগ হারাচ্ছেন—এটা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অন্ত্রের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জন অন্তত পাঁচ বছর বেঁচে থাকেন, কিন্তু দেরিতে শনাক্ত হলে সেই হার নেমে আসে প্রতি ১০ জনে মাত্র একজনে।
রাজকীয় সূত্র জানিয়েছে, রাজার অন্ত্রের ক্যান্সারের উদাহরণকে তার নিজের অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয় এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের সম্ভাবনা আগেই বাতিল করা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে এনএইচএস-এর অধীনে অন্ত্র, স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সারের জন্য জাতীয় স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ধীরে ধীরে ফুসফুসের ক্যান্সার স্ক্রিনিংও চালু করা হচ্ছে।
২০১২ সাল থেকে স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সার উদ্যোগটি এখন পর্যন্ত ১১৩ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহ করেছে, যার মাধ্যমে ৭৩টি গবেষণা ও ক্লিনিক প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়েছে।








