এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজায় নতুন করে শুরু করা সামরিক আক্রমণ ও ত্রাণ বিধিনিষেধ বন্ধ না করলে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (১৯ মে) ব্রিটিশ সরকারের প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বেসামরিক জনগণকে অপরিহার্য মানবিক সহায়তা প্রদানে ইসরায়েল সরকারের অস্বীকৃতি অগ্রহণযোগ্য আর এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। আমরা পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ করার যে কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করি। আমরা সুর্নিদিষ্ট নিষেধাজ্ঞাসহ পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবো না।”
এর প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেছেন, “লন্ডন, অটোয়া ও প্যারিসের নেতারা ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হওয়া গণহত্যা আক্রমণকে বিশাল পুরস্কার প্রস্তাব করছে আর এ ধরনের আরও নৃশংসতাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।”
পুরোপুরি বিজয় না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল ন্যায্য উপায়ে তার নিজেকে রক্ষা করবে বলে দাবি করেছেন তিনি। যুদ্ধ শেষ করার জন্য তিনি অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা ভূখণ্ডকে অসামরিকীকরণের দাবি ফের উল্লেখ করেছেন; জানিয়েছে রয়টার্স।
মার্চের শুরু থেকেই ইসরায়েল গাজায় ওষুধ, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ আটকে রেখেছে। এভাবে তারা ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ওপর তাদের হাতে বন্দি ইসরায়েলি জিম্মিদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। হামাসের যোদ্ধারা এসব জিম্মিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলার সময় ধরে নিয়ে যায়।
যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিমা তিন নেতা কিয়ের স্টারমার, এমানুয়েল ম্যাঁক্রো ও মার্ক কার্নি বলেছেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে রক্ষা করার ইসরায়েলের অধিকারকে আমরা সবসময়ই সমর্থন করি। কিন্তু এই বৃদ্ধি পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ।”
গাজায় নেতানিয়াহু সরকার যে ‘মর্মান্তিক কর্মকাণ্ড’ অনুসরণ করছে তারা তার পক্ষে দাঁড়াতে পারেন না বলে জানিয়েছেন ওই নেতারা। গাজায় অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশর যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তারা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাব দিতে সেখানে সামরিক অভিযান শুরু করে ইজ়রায়েলি বাহিনী। হামাসের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য চলতি বছরের মার্চ থেকেই গাজ়া উপত্যকা ওষুধ, খাদ্য, জ্বালানি প্রবেশ করার বন্ধ করে দেয় ইজ়রায়েল।
ওই তিনটি দেশের তরফে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েলের অভিযানকে তারা সমর্থন করে এসেছে। তবে এখন যা হচ্ছে তাতে তারা সমর্থন করতে পারছে না। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, গাজ়া উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির জন আমেরিকা, কাতার এবং ইজিপ্ট যে পদক্ষেপ করছে তাতে তাদের সমর্থন আছে।








