ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি দেশে প্রথমবারের মতো মানসিক স্বাস্থ্য ও সাইকোসোশ্যাল সাপোর্ট নিয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করেছে। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার মতো দক্ষ পেশাজীবীর প্রয়োজন বাড়ছে। সেই প্রয়োজন পূরণ করতেই এই প্রোগ্রামটি তৈরি করা হয়েছে। প্রোগ্রামটি পরিচালনা করবে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (ব্র্যাক আইইডি)।
এই মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনা হবে তত্ত্ব অনুশীলন ও গবেষণার মিশ্রণে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এই প্রোগ্রামটি তৈরি করা হয়েছে। সেই সাথে বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এখানে ক্লাস নেবেন। প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন চলছে। আবেদনের শেষ তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫। প্রথম ব্যাচের ক্লাস শুরু হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে।
সম্প্রতি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে এই প্রোগ্রামটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে ব্র্যাক আইইডি “মেন্টাল হেলথ ফর অল: ব্রেকিং স্টিগমা, বিল্ডিং ক্যাপাসিটি” শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, পেশাজীবী, নীতিনির্ধারক ও মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নেন। তারা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। কীভাবে স্টিগমা কমানো যায় এবং সবার জন্য ভালো সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সবাইকে আরও বেশি কথা বলতে হবে। ভুল ধারণা ভাঙতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের আরও ভালোভাবে সহায়তা করার জন্য সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
ব্র্যাক আইইডির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. ইরাম মরিয়ম বলেন, বাংলাদেশে বহু বছর ধরে শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও বেশি বিনিয়োগ করা খুব জরুরি।
অনুষ্ঠানে “থ্রাইভিং টুগেদার: ফ্রম লাইফ টু লিডারশিপ” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনাও হয়। বিভিন্ন পেশার মানুষ তাদের নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আলোচনার মধ্যে ছিল মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব এবং এর চ্যালেঞ্জগুলো। তারা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সবার একসাথে কাজ করা প্রয়োজন। আলোচকরা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে বহুমাত্রিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
মানসিক স্বাস্থ্যকে একটি সার্বজনীন প্রয়োজন হিসেবে স্বীকৃতি জানানোর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। আলোচকরা বলেন, পেশা বা ব্যাকগ্রাউন্ড যাই হোক না কেন সবার মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এটি একটি মানবিক এবং স্থিতিশীল সমাজ গঠনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রোগ্রামটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জাতিসংঘঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহকে এগিয়ে নিতে বিশেষ করে এসডিজি-৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ), এসডিজি-৪ (গুণগত শিক্ষা) এবং এসডিজি-১৭ (লক্ষ্যসমূহ অর্জনে অংশীদারিত্ব) অর্জনে সহায়তা করবে।








