বিপিএলে গতআসরে একাধিক ম্যাচে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। তদন্তে সত্যতাও মিলেছে। ফিক্সিং রোধে এবারের আসর নিয়ে বেশ কড়াকড়ি অবস্থানে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিট (আকু)। কড়াকড়িতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে ঢাকা ক্যাপিটালস। রাজশাহী ওয়ারিয়র্স কোচ হান্নান সরকার মনে করছেন, এমন কড়াকড়ি দেশের ক্রিকেটের জন্যই ভালো। নিয়মের মধ্যে থেকে তৎপরতা চালানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।
শুক্রবার সংবাদ সম্মলনে ঢাকা ক্যাপিটালস সিইও আতিক ফাহাদ আকুর বিরুদ্ধে নিয়ম না মানার অভিযোগ তোলেন। জানান, কোন ধরনের নিয়মনীতি না মেনেই খেলোয়াড়দের হোটেল কক্ষে প্রবেশ এবং ব্যাটে নামার আগে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আকু। মোবাইলও নিয়ে নেয়া হয়েছে অনেকের। আকুর এমন হস্তক্ষেপে খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন যায় হান্নান সরকারের কাছে। দলের অনুশীলন শেষে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী কোচ বলেন, ‘সত্যি বললে এবার অনেক কড়াকড়ি রয়েছে, এটা সত্য। কারণ এর আগে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছি, কোচ হিসেবে কাজ করেছি। যখন অ্যান্টি করাপশন ইস্যুটা এসেছে তখন দেখেছি যেভাবে সামলানো হতো, এবার তার চেয়ে একটু আলাদাভাবে করা হচ্ছে। কড়াকড়ি করার ব্যাপারটা নিয়ে কিন্তু আমরা সবাই ইতিবাচক। আমার মনে হয় সেটা প্রশংসা করা উচিত। কিন্তু যেটাই ঘটবে, যেটাই ঘটানো হবে বা যেটাই দেখা হবে, সেটা প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে নিয়মের মধ্যে থেকে করা জরুরি।’
‘ঢাকার যে বিষয়টা কালকে দেখলাম সংবাদ সম্মেলন করেছেন উনারা। যে বিষয়গুলো শুনেছি বা দেখেছি, এই বিষয়টা সম্পর্কে খুব বিস্তারিত বলতে পারবো না। কিন্তু সেটা যদি আমাদের অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের গাইডলাইন অনুযায়ী বা তাদের প্রসেসের মধ্যে থেকে হয় সেটাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
ঢাকা ক্যাপিটালস সিইও শুক্রবার বলেছিলেন, নিয়ম না মেনে বা ম্যানেজমেন্টকে না জানিয়ে সাইফ হাসানকে ব্যাটে নামার আগে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনোবল ভেঙে দেয় আকু। বিষয়টি নিয়ে হান্নান বললেন, ‘খেলার মধ্যে যদি একাদশে আছে, ব্যাটে নামবে এমন কাউকে কোন প্রশ্ন করতে হলে, অবশ্যই ম্যানেজারের মাধ্যমে আসতে হবে। আমার দলে (এই প্রক্রিয়া না মানা হলে) এই ধরনের পরিস্থিতি আসলে নিশ্চিতভাবেই আমি এটা মানব না।’
‘নিশ্চিতভাবেই কারো রুমে সার্চ করা, কারো মোবাইল সার্চ করা, যে কোনভাবে ওনাদের (আকু) অধিকার রয়েছে। কিন্তু তারও একটা নিয়ম রয়েছে। যতটুকু জানি যে ম্যানেজারকে জানিয়ে সেটা করতে হয়। যদি সেটা করে থাকে তাহলে সেটা নিয়ে আর সেকেন্ড কোন প্রশ্ন আসা উচিত না।’
‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যেটা সেটা যদি অনুসরণ করা হয় বা তাদেরকে যদি প্রসেসের মধ্যে থেকে সেভাবে দেখা হয়, এমনকি আমার দলের ক্ষেত্রেও যদি আসে, সেটা আমরা সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। তবে নিয়মের মধ্যে থেকে যেটা রয়েছে সেটা করলে আর কোন দ্বিধা বা সংশয় আসে না।’








