ফাগুনের প্রথম দিন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর চত্বরে বসন্ত উৎসবে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই বাসন্তি সাজে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে জাদুঘর চত্ত্বর!
কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত- চারদিকে উৎসবের আমেজ। সকাল ৮টায় বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের সমবেত যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে একের পর এক গান ও নৃত্য পরিবেশনায় জমে ওঠে আয়োজন।
শাহ আবদুল করিমের ‘বসন্ত বাতাস’সহ বিভিন্ন কালজয়ী বাংলা গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। ছিল একক সংগীত, আবৃত্তি, শিশু-কিশোর ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা, পাশাপাশি প্রীতি বন্ধনী ও আবির বিনিময়।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আয়োজন হলেও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়।
জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষৎ-এর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট জানান, অনিশ্চয়তার কারণে চারুকলায় আয়োজন সম্ভব হয়নি। বিকল্প হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে বেছে নেওয়া হয়- কারণ মুক্তিযুদ্ধ যেমন দেশের শেকড়, বসন্তও তেমনি সংস্কৃতির শেকড়।
পরিষৎ-এর সহ-সভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, মব সন্ত্রাস, মাজারে হামলাসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধের কারণে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনায় সংস্কৃতিচর্চা ‘বন্ধ্যা সময়’ পার করেছে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই বন্ধ জানালা কিছুটা হলেও খুলেছে।
আগামী বছর আবারও বকুলতলায় উৎসব আয়োজনের প্রত্যাশা জানান আয়োজকরা।
১৯৯৪ সাল থেকে আয়োজিত এ উৎসবে এবারও অংশ নেয় বিভিন্ন সংগীত ও নৃত্যদল। স্পন্সর হিসেবে ছিল ইস্পাহানী মির্জাপুর চা।








