লগ্নিকৃত প্রায় ১৬ কোটি টাকা তুলে ফেললেও লাভের অর্থ পাইরেসির কারণে তুলনামূলক কম আসছে। এ কারণে যারা ষড়যন্ত্র করে পাইরেসি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন ঈদের সবচেয়ে আলোচিত ছবি ‘বরবাদ’ এর প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি ও আজিম হারুন।
ইতোমধ্যে গুলশান থানায় এফআইআর ও ডিবি সাইবারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে ‘বরবাদ’ পাইরেসির বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে ব্যারিস্টার সজীব মাহমুদ আলম জানান, বরবাদ যেভাবে পাইরেসি করা হয়েছে সেটা সাধারণ মানুষের কাজ নয়। কারণ, কালার, স্পিড ভার্সনের কিছু কিছু চেইঞ্জ করে পাইরেসি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গুলশান থানায় মামলা দেয়া হয়েছে। ডিএমপি সাইবার ক্রাইম ইউনিট তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বের করবে এই পাইরেসির সূত্রপাত আসলে কোথায়! অপরাধীদের যেন শাস্তি হয় এজন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। একই সঙ্গে ফেসবুকের অথোরিটি, মালয়েশিয়ান পুলিশ, আমেরিকার গোয়েন্দা পুলিশ বা যে কোনো দেশ থেকে বাঙালি যারা আপলোড করছে, তাদের সেই দেশের আইনে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
শাহরিন আক্তার সুমী বলেন, ‘বরবাদ’ ঠাণ্ডা মাথায় প্ল্যান করে দেশ থেকে পাইরেসি করা হয়েছে। কারণ, বিদেশে যেটা পাঠানো হয়েছে সেখানে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এই এইচডি কোয়ালিটির ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেয়া সহজ কথা নয়। যখন বিদেশে রিলিজ দিয়েছি, তখন প্ল্যান করে দেশ থেকে পাইরেসি করা হয়েছে। প্রডাকশন হাউজ বুঝতে পারছে কতটা ক্ষতি হচ্ছে। শুধু টাকা না, আমাদের সম্মানের ব্যাপার। টাকা দিয়ে এই ক্ষতি পূরণ হবে না। সামনে আবার সিনেমা বানিয়ে হয়তো আরও বেশি লাভ করবো, কিন্তু যে সম্মানহানী হচ্ছে সেই ক্ষতি কীভাবে উঠবে?
“এখন ৭৫ কোটি টাকার মতো গ্রস কালেকশন হয়েছে। যদি পাইরেসি না হতো আমাদের টার্গেট ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যেত। মুক্তির প্রথমদিন থেকে যেভাবে ‘বরবাদ’ সারাদেশে সাড়া ফেলেছিল তাতে খুব সহজে ১০০ কোটি ছাড়িতে যেত। এই সাফল্য কেউ কেউ নিতে পারেনি। এজন্য তারা ঠাণ্ডা মাথায় বরবাদ পাইরেসি করেছে। তারা চাচ্ছে, আমি থেমে যাই। কারণ আমি প্রযোজক হিসেবে নতুন। আমাদের সাকসেসটা তারা নিতে পারছে না। কিন্তু আমি তো থামবো না। আমি এর শেষ দেখবো এবং আগামীতে আরও ভালো কাজ করে যাবো এবং এটা করবোই।”
এখনও দেশ বিদেশে ‘বরবাদ’ ভালো চলছে। গোটা বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ‘বরবাদ’ বেঞ্চমার্ক ক্রিয়েট করেছে। প্রযোজক সুমী আরও বলেন, এই ছবি যেমন চলছে এর চেয়েও ভালো চলতে পারতো। যারা সিনেমাপ্রেমী তারা পাইরেসি না করে বিগ ক্রিনে ‘বরবাদ’ দেখছেন। কিন্তু পাইরেসি হওয়ার কারণে রিপিট দর্শক আমরা হারাচ্ছি। এটা শুধু আমার ক্ষতি হচ্ছে না, সিনেমা হল মালিক থেকে গোটা ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হচ্ছে।
“ঈদে আরও কয়েকটি ছবি রিলিজ হয়েছে, সেগুলো পাইরেসি হলো না; শুধু বরবাদ কেন হলো? এখানেও স্পষ্ট করে বোঝা যায় এটা টার্গেট করে করা। আজ বরবাদ পাইরেসি হয়েছে, আগামীতে এর চেয়ে বড় সিনেমা আসবে, সেটাও যে পাইরেসি হবে না গ্যারান্টি কে দেবে? তাহলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি কীভাবে আগাবে? দেশে যাদের কাছে ডিস্ট্রিবিউট করতে দিচ্ছি তাদের কাছে ছাড়া তো এইচডি কপিটা অন্য কোথায় যেতে পারে না।”
প্রযোজক বলেন, অনেকে ক্ষোভ ঝেড়ে বলছে, আমরা কেন চুপ আছি! কিন্তু চুপ ছিলাম না। যে রাত থেকে আমরা জানতে পেরেছি ঠিক তখন থেকে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি। কালপ্রিট যারা তাদের ধরার জন্য শুরু থেকে তৎপর আছি। তদন্ত চলছে। দেশের আইনের প্রতি আস্থা রয়েছে। এই দণ্ডনীয় অপরাধ যারা করেছে আশা করছি শিগগির আইন তাদের মুখোশ উন্মোচন করবে। কেউ আবার না জেনে বলছে, আমরা নিজেরা বেটিং অনলাইনে বেচে দিয়েছি। কিন্তু এইচডি যেটা পাইরেসি হয়েছে সেখানে কি কোনো স্পন্সরের লোগো ছিল? নেই। নিজের জিনিস কেনই বা এটা করবো? আমার মনে হয়, সাধারণ সেন্স যাদের আছে তারাও এটা বুঝতে পারবেন। কারা পাইরেসি করছে সেটা তদন্ত চলছে, সব বেরিয়ে আসবে।
সুমি বলেন, যখন আইনি ব্যবস্থা নিতে দিতে যাই আমাকে জিজ্ঞেস করা হয় পাইরেসি হওয়া কপিটা কার কার কাছে দেয়া হয়েছিল? যাদের কাছে এই কপি ডিসট্রিবিউশনের জন্য দেয়া আছে ঠিক তাদের নামগুলো বলেছি। এই দণ্ডনীয় অপরাধটা কে বা কারা করেছে সেটা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। সেইসাথে যেসব আইডি বা নামি বেনামী পেজ থেকে ‘বরবাদ’ আপলোড হয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ জমা দিয়েছি, খোঁজে খোঁজে ওগুলোর নাম এখনও জমা দিচ্ছি। মূল পরিকল্পনাকারীর নাম যেমন বেরিয়ে আসবে, তেমনি এখন যারা পাইরেসি করছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা থাকবে।
‘বরবাদ’ ছবির ডিজিটাল সেক্টর দেখছে কাইনেটিক মিউজিক। এর পক্ষে জুয়েল মোর্শেদ বলেন, গত সাত দিনে শুধু ফেসবুক থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬,৯১টি ভিডিও ব্লক করা হয়েছে। ৩ মে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার ভিডিও ব্লক করা হয়েছে। যে বা যারা এইচডি ভার্সন পাইরেসি করেছে সেখান থেকে বরবাদের বেশ কিছু ভার্সন পাল্টে তারপর আপলোড করে। এজন্য আমাদের শুরুতে এগুলো নামাতে বেগ পেতে হয়েছে। যারা অনলাইনে আপলোড করছে তাদের উদ্দেশ্য আর্নিং না। এমনও হয়েছে বেনামী পেইজ ওপেন হয়েছে বরবাদ আপলোডের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, চাঁদাবাজি নয়, বরবাদের বড় সাকসেস থামাতে এই কাজ করা হয়েছে। আইনিভাবে ফরেনসিক তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে কোথা থেকে মূল পাইরেসি হয়েছে। বরবাদ এতো দ্রুত যেভাবে সাকসেস পেল এটাকে আটকাতে পাইরেসি করা হয়েছে। তদন্ত সবকিছু বেরিয়ে আসবে।
রিয়েল এনার্জি প্রডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘বরবাদ’ পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান হৃদয়। শাকিব খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন ইধিকা পাল, মিশা সওদাগর, যীশু সেনগুপ্ত, মামুনুর রশীদ, ফলজুর রহমান বাবু, মানব, শ্যাম প্রমুখ। ইতোমধ্যে ছবিটি ‘ইন্ডাস্ট্রি হিট’ ঘোষণা দিয়েছে নির্মাণ সংশ্লিষ্ঠরা। বর্তমানে বরবাদ দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইতালিতে চলছে। শিগগির মুক্তি পাচ্ছে মালয়েশিয়া, ইউকে, মধ্যপ্রাচ্যে।







