এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজের একদিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় খাল থেকে ইউছুফ হোসেন (৪৫) নামে এক রাজমিস্ত্রির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার দালাল বাজার-পালেরহাট সড়কের কোরালিয়া খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ইউছুফ সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পশ্চিম গৌপীনাথপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ হাজিবাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হুমায়ুন কবিরের ভগ্নিপতি। তিনি গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
এর আগে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে স্থানীয় এক যুবক খালে টেটা দিয়ে মাছ শিকার করতে গিয়ে বাঁশ গাছের নিচে খালে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে।
ইউছুফের ছেলে মো. কাউছার আহমেদ শাকিল ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, বাবার সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে বাড়ির সামনে তার শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে এসে দেখি খালে তার মরদেহ পড়ে আছে। গামছা দিয়ে তার পা বাঁধা ছিল।
কাউছার আহমেদ শাকিল আর জানান, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমাদের পারিবারিক জমি বণ্টন নিয়ে চাচাদের (নিহতের ভাই) সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়া আর কারোর সঙ্গে বাবার কোন বিরোধ নেই। তার ভাইদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটনানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাইয়ুম হোসেন বলেন, আমি টেটা দিয়ে খালে মাছ শিকার করতে যাই। তখন ইউছুফ কাকার মরদেহ বাঁশ গাছের নিচে খালে পড়ে থাকতে দেখে সবাইকে খবর দিই।
নিহতের স্বজন (শ্যালক) সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর হুমায়ুন কবীর বলেন, তার ভাইদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাত তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরূপ পাল আজ বিকেল তিনটার দিকে জানান, বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই আবু হানিফ জানিয়েছেন, নিহতের ছেলে কাউছার আহমেদ শাকিল নিজে বাদী হয়ে দুই চাচা আবু হানিফ ও মাহবুব আলম নামে দু’জনকে আসামী করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন শনিবার। পুলিশ দুইজনকে আসামী গ্রেপ্তার করে থানায় রেখে জিজ্ঞাসা করছে। পরবর্তীতে মেডিকেল রিপোর্ট আসলে আরো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।








