সংরক্ষণ, শিক্ষন-প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দেশবরেণ্য স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এনাটমি বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় স্থপতির পরিবারের কাছে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে মরণোত্তর দেহ গ্রহণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। এসময় তিনি মোবাশ্বের হোসেনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট করতালি দেন এবং মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর মরদেহ সংরক্ষণ, শিক্ষন-প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের অনুমতিপত্রটি এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে প্রদান করা হয়।
এসময় মোবাশ্বের হোসেনের পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে সাঈদ হোসেন তমাল, মেয়ে সোনিয়া কৃষ্টি, ভাগিনা ও সহকর্মীরা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্তিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছায়েফ আহমদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আতিকুল রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার ডা. স্বপন কুমার তালুকদার, এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দসহ বিভিন্ন বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, এনাটমি বিভাগের সকল শিক্ষক ও রেসিডেন্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু জানান, এনাটমি বিভাগের নবনির্মিত মরচুয়ারি, প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব, স্কিল ল্যাব এন্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সে গবেষণা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে এক মাসের অধিক সময় লাগবে।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসায় শিক্ষা ও গবেষণার জন্য মানুষের মরদেহ প্রয়োজন। মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে গবেষণার সুযোগ আছে। মানুষের ব্রেন ও ফাংশনালি অনেক রহস্য আছে। যেগুলো এখনো মানুষ উদঘাটন করতে পারেনি। দেহদান করা হলে গবেষণার মাধ্যমে অনেক রহস্যের উদঘাটন করা সম্ভব।’
এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগের দেহ সংরক্ষণ, পরীক্ষণ এবং গবেষণাকার সর্বাধুনিক। আমাদের এখানে যাদের দেহদান করা হয়েছে, তাদের স্বজনদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানো জানানো হবে। মরণোত্তর দেহদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে এটিকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
মোবাশ্বের হোসেনের ছেলে সাঈদ হোসেন তমাল বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা সর্বস্ব ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে গেছেন। বহু মুক্তিযোদ্ধা পরবর্তীতে সাধারণ হিউম্যান হয়ে গেছেন। তিনি সাধারণ হিউম্যান হতে পারেন নি। তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদানের জন্য তিনি তার দেহদান করে গেছেন।’
গত রোববার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান মোবাশ্বের হোসেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হার্টের রোগে ভুগছিলেন।







