বন্যার্তদের পাশে থাকতে তৎপর শিল্পীরাও। কেউ দান করে ফেসবুকে ছবি পোস্ট দিয়ে জানাচ্ছেন, কেউ আবার নীরবে নিভৃতে বানভাসি মানুষের পাশে থাকছেন। তেমনই একজন চিত্রনাযিকা ইয়ামিন হক ববি। তিনি জানালেন, লোক দেখানো দান-সদকা তার মোটেও পছন্দ না। এমনকি তার বোন-মা কেউই এগুলো পছন্দ করেন না।
চাঁদপুরে ববির নানার বাড়ী। সেখানকার পার্শ্ববর্তী জেলা হচ্ছে ফেনী, নোয়াখালী। ববি জানান, বন্যার শুরুতে তিনি খাবার, শুকনো খাবার, কাপড়চোপড় সবকিছু দিয়ে বন্যার্তদের পাশে থেকেছেন। ববি বলেন, বন্যায় সবকিছু পানিতে তলিয়ে থাকে, এই সময় নগদ অর্থ কাজে আসে না। এ কারণে আমি শুরুতে খাবার এবং পোশাক পাঠিয়েছিলাম।
‘বন্যার পানিতে ভেসে আসা বাচ্চাগুলোর ছবি যখন অনলাইনে গিয়ে দেখতে পাচ্ছি আমার খুব খারাপ লাগছে। তবে শুধু বন্যা না, আমি প্রায় বিভিন্ন কাজে কন্ট্রিবিউট করি, এতিম খানায় যাই। ওখানকার বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাই। দান করে কখনো এগুলো ফেসবুকে ছবি দেই না। খুব লজ্জা লাগে। কারণ, যাকে হেল্প করা হয় তার অসহায়ত্বকে পুঁজি করা মনে হয়।’
গেল ৫ আগস্ট পতন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নতুন করে দেশ আবার সাজতে শুরু করেছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ববিও স্বপ্ন দেখছেন ঝিমিয়ে পড়া দেশ নতুন করে চাঙ্গা হবে।
রাজত্ব, হিরো দ্য সুপারস্টার, বিজলী ছবি নায়িকা ববি মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে যে অনিয়মগুলো বিরাজমান, এতো দ্রুত সেগুলো বন্ধ হবে না। তবুও সবার চেষ্টা থাকলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতে ববির মন্তব্য, এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। এজন্য মাঝেমধ্যে কিছুটা ভয় অনুভব হয়। এর মধ্যে প্রায় খবর দেখি একেক স্থানে দখল ও লুটপাট চলছে। সবার মতো আমিও জানমালের নিরাপত্তা আগে চাইছি। এখন আমরা সবাই বুঝতে পারছি, পুলিশ ছাড়া দেশের মানুষের নিরাপত্তা অচল। আমি আশা রাখছি, পুলিশ ভাইয়েরা আবার দ্রুত আগের মতো অ্যাকটিভ হয়ে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বে থাকবেন।








