ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক বিস্তৃত জনমত জরিপে বিএনপি প্রার্থীরা ১৭১ থেকে ২২২ আসনে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে জামায়াত ৪৬ আসনের মধ্যে থাকতে পারে।
এমন একটি জরিপ প্রকাশ করেছে ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সোশ্যাল ইনসাইট।
বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি বনানীতে সিএসআই হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফল তুলে ধরা হয়।
এতে জরিপ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কাদের ও ডাটা অ্যানালিস্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও ফলাফল ব্যাখ্যা করেন সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন। উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
জরিপের কাঠামো
১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপে অংশ নেন ৬৪ হাজার ৮৯০ জন ভোটার। দেশের সব বিভাগ, শহর ও গ্রামাঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে স্তরভিত্তিক স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে সরাসরি সাক্ষাৎকার, প্রশ্নপত্র এবং আসনভিত্তিক ভোট ভাগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
ভোটার অংশগ্রহণ ও মনোভাব
জরিপে দেখা গেছে, ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী। অনাগ্রহী ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সিদ্ধান্তহীন ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে ‘উচ্চ’ হিসেবে উল্লেখ করে সিএসআই জানায়, ভোটারদের বড় অংশের ধারণা—এবার নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে সমান প্রতিযোগিতার (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) পরিবেশ রয়েছে।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে ৯২ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা ইতিবাচক মত দিয়েছেন। বড় ধরনের নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতার আশঙ্কা কম থাকলেও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা সংশয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জাতীয় পর্যায়ের ভোটপ্রবণতা
জনপ্রিয় ভোটের হিসেবে বিএনপি ও তাদের শরিকরা সম্ভাব্য ৪৬ দশমিক ৬০ শতাংশ সমর্থন পেতে পারে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি জোটের সম্ভাব্য সমর্থন ৩২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বাকি ভোট অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঝুলিতে যেতে পারে।
আসনভিত্তিক চিত্র (৩০০ আসন)
জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি ১০ শতাংশের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ১৭১ আসনে। জামায়াত ১০ শতাংশের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ৩৫ আসনে। ৮৬ আসনে ব্যবধান ১০ শতাংশের কম, যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। স্বতন্ত্র ও অন্যান্যদের সম্ভাব্য আসন ৭টি।
সম্ভাব্য জাতীয় চিত্র (প্রক্ষেপণ)
আসন বিশ্লেষণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের প্রবণতা বিবেচনায় বিএনপি জোট ১৭১ থেকে ২২২টি আসন পেতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন ৪০ থেকে ৬০টির মধ্যে থাকতে পারে।
মূল পর্যবেক্ষণ অনুসারে, উচ্চ ভোটার উপস্থিতির সম্ভাবনা, তুলনামূলক সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে স্পষ্ট লিড, ৮৬টি আসন চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আংশিক সংশয় রয়েছে।
সিএসআই ও সাপ্তাহিক সুরমা পরিচালিত এই সমীক্ষা ইঙ্গিত করেছে, জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ একদিকে সুস্পষ্ট ব্যবধানের আসন দ্বারা চিহ্নিত হলেও অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে লড়াই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণের আগ্রহ এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ইতিবাচক ধারণা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার পক্ষে সহায়ক হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে ভোটের দিন উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের গতিপ্রকৃতি এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।







