বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: বিএনপি একটা সন্ত্রাসী সংগঠন, সন্ত্রাসীদের কিভাবে শিক্ষা দিতে হবে, সেই শিক্ষাটাই এখন আমাদের দেওয়া উচিত। সেটাই আমরা দেবো। এদের জন্য দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে সেটা হতে দেওয়া যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে তার সাম্প্রতিক তিন দিনের সরকারি সফরের ফলাফল সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: এদের (বিএনপি) মধ্যে কোন মনুষত্ববোধ নেই। এদের সঙ্গে আমরা যতই ভালো ব্যবহার করি না কেন এদের স্বভাব কখনোই বদলাবে না। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদে এরা বিশ্বাস করে। অস্ত্রহাতে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে এদের জন্ম। কাজেই এরা ওটাই ভালো বোঝে অন্য কিছু না। আমার ধারণা এরা নির্বাচন চায় না, এরা একটা অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। মানুষকে কষ্ট দেওয়াটাই যেনো এদের চরিত্র।
তিনি আরও বলেন: আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাংবাদিকদের ওপর তারা (বিএনপি) হামলা চালাচ্ছে। যা করেছে তা তারা প্রকাশ্যে করেছে। গাড়ি পোড়ানো, গতকালও লালমনিরহাটে আমাদের যুবলীগের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যা করা, মানুষের সম্পদ নষ্ট করা আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এটাই তাদের চরিত্র। বিশেষ করে তারা সাংবাদিকদের ওপর যে হামলাটা করলো এটা আমি বুঝতে পারছি না। সাংবাদিকরা তাদের পক্ষে ভালো ভালো নিউজ করছিলো, টকশোতে তাদের পক্ষে কথা বলা; সাংবাদিকরা সরকারের দোষটাই তো বেশি করে দেখছিল। কিন্তু সাংবাদিকদের ওপর তাদের এ রাগের কারণটা আমার বোধগোম্য হলো না। টেলিভিশন প্রাইভেট সেক্টরে আমিই দিয়েছি। কিন্তু সব জায়গায় তাদের সংবাদটাই সবার আগে। আমার নিউজ যায় অনেক পরে। কোন কোন টেলিভিশনে আমি চার নম্বর-পাঁচ নম্বরেও থাকি। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই।
যোগ করেন: যারা আহত হয়েছেন আমাদের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে হাসপাতালে গেছেন, সকলের খোঁজ খবর নিয়েছেন চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। ২০১৩ সালে ঠিক এ ধরণের অগ্নি সন্ত্রাস তারা করে। ২০১৩-১৪-১৫ পুরো তিন বছর ধরে তাদের এ অগ্নি সন্ত্রাস চলে। ক্ষতিগ্রস্থদের আমরা আর্থিক সহযোগিতা করেছি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের আমন্ত্রণে গত ২৪ অক্টোবর ব্রাসেলসে যান শেখ হাসিনা। সফরকালে সাইডলাইনে ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেন। সফর শেষে ২৭ অক্টোবর ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ২৫ অক্টোবর সকালে তিনি ইসির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় বাণিজ্য কমিশনার ভালদিস ডোমব্রোভস্কিসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ৩৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটি ঋণ সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ৪৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি অনুদান চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও ইসির মধ্যে একটি ১২ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া এই সফরে বাংলাদেশ সরকার এবং ইসি বাংলাদেশের সামাজিক খাতে ৭০ মিলিয়ন ইউরোর পাঁচটি ভিন্ন অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শেখ হাসিনা একই দিন ২৫ অক্টোবর গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের উদ্বোধনী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগ দেন এবং বক্তৃতা করেন। বিকালে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. ওয়ার্নার হোয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ইউরোপীয় কমিশনের কমিশনার ফর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট জেনেজ লেনারসিক ও কমিশনার ফর ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপ জুটা উরপিলাইনেনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে উরসুলা ভন ডার লেয়েনের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন।
২৬ অক্টোবর সকালে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রুর সঙ্গে ও লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেলের সঙ্গে দুটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। একই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের সমাপনী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগ দেন। শেখ হাসিনা পরে বেলজিয়ামে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেওয়া সংবর্ধনায় যোগ দেন।







