আগামীকাল শনিবার ২৯ জুলাই ঢাকা শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ মুখে সকাল ১১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
নয়াপল্টনে মহাসমাবেশে নতুন কর্মসূচি দিয়ে দলের নেতারা বলেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই মহাসমাবেশ পরিবর্তনের মাইলফলক। ভোটাধিকার হরণকারী কর্তৃত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও ইসি পুনর্গঠন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ এক দফা দাবিতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, যারা মহাসমাবেশে এসেছে তারা কোথায় থেকেছে? হোটেলে বা আত্মীয়র বাড়িতে। যাদের আত্মীয়ের বাড়ি নেই তারা ফুটপাতে থেকেছে। পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। আমি তাদেরকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। না হলে ৯০ এর মতো জেলের তালা ভেঙে আনব।
মির্জা আব্বাস বলেন, এই সমাবেশ প্রমাণ করে আমরা যেকোন পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে পারে। সরকার পতনের সময় চলে এসেছে, এভাবেই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সরকারের পতন ঘটাবো।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। কিন্তু আদালত তাকে জামিন দিলো না কেন। কারণ, এই উচ্চ আদালত, নিম্ন আদালত শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় রাখতে চায়। সুতরাং যে আদালতে শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয়, যে প্রশাসন তার হাতের মুঠো থেকে বেরুচ্ছে না সেই অবস্থায় ফয়সালা করতে হবে রাজপথে। যারা ঢাকায় আছেন, তারা ঢাকায় থাকেন। শেখ হাসিনার পদত্যাগের আগ পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজ দেশের মানুষ পল্টনে উপস্থিত হয়েছে দখলদার, অবৈধ, ভোট চোর সরকারকে বার্তা দেওয়ার জন্য। আজকের এই সমাবেশের মাধ্যমে দেশের মানুষ পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে, গণভবন ছাড়ুন। গত দুই দিনে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমেরিকার কংগ্রেস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। সরকারের দেশে ও দেশের বাইরে কেউ নেই। সুতরাং ভোট চুরি প্রকল্প বাস্তবায়নের আর কোনো সুযোগ নেই। এখনই পদত্যাগ করুন।








